
বুধবারের শুরুতে বাজার-মনোভাব অস্থির রয়েছে। মিশ্র প্রভাবকের মধ্যে ট্রেডাররা আগের দিনের লোকসান সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জাপান ও চীনের বাজারে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা, পাশাপাশি ইউরোজোন ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে সতর্ক মনোভাবও ট্রেডিংয়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর সঙ্গে রয়েছে কানাডা ব্যাংকের (BoC) মুদ্রানীতির বৈঠকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
এই অনুঘটকগুলোর প্রভাবে, প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে মার্কিন ডলারের বুলরা কিছুটা বিরতি নিয়েছে। একই সময়ে, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেমেছে। তবে, চীনকে ঘিরে অর্থনৈতিক উদ্বেগ এবং উচ্চ সুদের হারের কারণে মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি কম হওয়ার আশার মধ্যে মার্কিন ডলারের দরপতনেও সোনা ও অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়েনি। এর ফলে ফেডের সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রাখার ইঙ্গিত দেওয়া অবস্থানটি সমর্থন পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় প্রান্তিকের শক্তিশালী GDP এবং রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর জন্য চীনের আরও প্রণোদনার প্রত্যাশায়, বছরের সর্বনিম্ন স্তরে AUDUSD ও NZDUSD সামান্য বেড়েছে।
অন্যদিকে, ইল্ড কমে যাওয়ার সঙ্গে BoJ-এর কঠোর অবস্থান এবং জাপানের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা যুক্ত হওয়ায় USD-এর দরপতনের মধ্যে USDJPY সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে, সাম্প্রতিক সংশোধনমূলক গতিবিধি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের স্টক ফিউচার সামান্য নিচে নেমেছে। এশিয়া-প্যাসিফিকের শেয়ারবাজারের সঙ্গে মিলিয়ে এগুলোও বাজারের নেতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে, খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য নিচের স্তরে লং পজিশন জমার ইঙ্গিত দিলেও এবং ক্রিপ্টো ETF-এর অনুমোদন দ্রুত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও BTCUSD ও ETHUSD চাপে রয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বর্তমান পর্যায় দেখিয়ে কেউ কেউ মার্কিন ডলারের সাম্প্রতিক দরপতনকে যুক্তিসংগত বলতে পারেন। তবে তুলনামূলক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ বলছে, অধিকাংশ উন্নত অর্থনীতির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বড় ও শক্তিশালী। এতে গ্রিনব্যাক সমর্থন পায়—বিশেষ করে যখন অন্য প্রধান অর্থনীতিগুলোতে মন্দার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে, সুদের হার বাড়ানো বন্ধ করতে হচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সুদের হার কমানোর প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
একই ধারায়, সাম্প্রতিক তথ্য আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় চীনের প্রণোদনা বাজারের অংশগ্রহণকারীদের প্রশংসা কুড়াতে পারেনি। এ ছাড়া, চীনা রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলোর বারবার সংকটে পড়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা ড্রাগন জাতির অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে চাপে ফেলছে। ফলে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বজায় রয়েছে এবং সাম্প্রতিক বাজারচলনে বাধা তৈরি হচ্ছে।
বর্তমান কনসলিডেশন পর্ব চললেও USDJPY-তে দরপতন হতে পারে। মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানও শক্তিশালী হয়েছে। এর সঙ্গে ইয়েনের কয়েক মাসের সর্বনিম্ন অবস্থান বিবেচনায় নিলে, ব্যাংক অব জাপান (BoJ) অতি-সহজ মুদ্রানীতি থেকে সরে এসে প্রচলিত ধারার বিপরীত পথে যেতে পারে।
তাই, বাজারের সাম্প্রতিক সংশোধনমূলক ওঠানামা সম্পর্কে ট্রেডারদের সতর্ক থাকা উচিত। মার্কিন ডলারের বিপরীতে বড় পজিশন নেওয়ার আগে বাজারের দিক স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
বুধবারের শুরুটা তেমন উল্লেখযোগ্য না হলেও, জার্মানির Factory Orders হতাশ করেছে এবং অস্ট্রেলিয়ার Q2 GDP উন্নতি দেখিয়েছে। ইউরোপীয় সেশনের বাকি সময় এবং US ট্রেডিং সেশনে বাজারে সক্রিয়তা দেখা যেতে পারে। এদিকে, Eurozone Retail Sales, US ISM Services PMI এবং Bank of Canada (BOC)-এর মুদ্রানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখা জরুরি। US-এর তথ্য ভালো হলে, EU-এর পরিসংখ্যান হতাশাজনক থাকলে এবং BoC কানাডিয়ান ডলারের (Loonie) ক্রেতাদের আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হলে, Greenback-এর আরও দরবৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!