একজন ট্রেডারের মূল নীতি হলো কম দামে কিছু কিনে বেশি দামে বিক্রি করা। আসলে, সব আর্থিক বাজারই এভাবে কাজ করে। শেয়ার শর্ট-সেল করার সময় বিনিয়োগকারীরাও সাধারণত একই নীতি অনুসরণ করেন।

ধারণাটি বেশ সহজ। মুনাফা করতে কম দামের স্টক খুঁজে বেশি দামে বিক্রি করুন। এখানে একমাত্র চ্যালেঞ্জ হলো এ ধরনের অ্যাসেট খুঁজে বের করা। অবমূল্যায়িত স্টক চেনা বেশ কঠিন, বিশেষ করে শেয়ারবাজারে নতুনদের জন্য।
এই লেখায় আমরা অবমূল্যায়িত অ্যাসেট, বিশেষ করে স্টক খুঁজে বের করার কয়েকটি সহজ উপায় এবং সেগুলো ট্রেড করার কিছু সহজ পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করব।
“অবমূল্যায়িত স্টক” বলতে সাধারণত এমন অ্যাসেটকে বোঝায়, যার দাম তার অন্তর্নিহিত মূল্যের চেয়ে কম। ধরুন, একটি কোম্পানি বছরে প্রায় $1 billion ফ্রি ক্যাশ তৈরি করে এবং তার বাজারমূলধন $1.5 billion। স্পষ্টতই, স্টকটি অবমূল্যায়িত।
অন্যদিকে, একই কোম্পানির বাজারমূলধন যদি $50 billion হয়, তাহলে বলা যায় এটি অতিমূল্যায়িত। ওই বাজারমূলধনের সমপরিমাণ ফ্রি ক্যাশ ফ্লো তৈরি করতে কোম্পানিটির 50 বছর লাগবে।
সাধারণত, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা দাম বাড়বে এই আশায় অবমূল্যায়িত স্টক কিনতে পছন্দ করেন। এই কৌশলটি ভ্যালু ইনভেস্টিং নামেও পরিচিত। ডে ট্রেডারদের জন্য এ ধরনের অ্যাসেট উপযুক্ত নয়, কারণ অবমূল্যায়িত স্টকের দাম বাড়তে অনেক সময় লাগতে পারে।



দক্ষ বাজার তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, কোনো কোম্পানির স্টকের দাম সেই কোম্পানি সম্পর্কে আর্থিক তথ্য প্রতিফলিত করে। সহজভাবে বললে, বাজারমূলধন বিনিয়োগকারীদের মৌলিক আর্থিক তথ্য দেয়।
কখনও কখনও শেয়ারের মূল্য কম ধরে নির্ধারিত হয়, কারণ শেয়ার ইস্যুকারী কোম্পানি বাজারের একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপরই মনোযোগ দেয় এবং অন্য শিল্পগুলোকে উপেক্ষা করে। যেমন, গত এক দশকে একটি কোম্পানি প্রাকৃতিক সম্পদ খাত (যেমন গ্যাস ও তেল) বিবেচনা না করে মূলত শেয়ারের প্রবৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিয়েছে। ফলে, জ্বালানি খাতের শেয়ারের মূল্য কম ধরে নির্ধারিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণেও শেয়ারের মূল্য কম ধরে নির্ধারিত হতে পারে। ধরুন, কোনো কোম্পানির ইস্যু করা একটি অ্যাসেট থেকে বার্ষিক বা ত্রৈমাসিক ফলাফল দুর্বল আসছে। বিনিয়োগকারীরা সম্ভবত এসব শেয়ার বিক্রি করবেন, যার ফলে দামও কমে যাবে।
সবশেষে, বিভিন্ন ম্যাক্রো ফ্যাক্টরও কোনো অ্যাসেটের মূল্য কম ধরে নির্ধারিত হওয়ার কারণ হতে পারে। FED সুদের হার বাড়ালে শেয়ারের দাম কমে যায়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক সমস্যা দেখা দিলেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। এমনকি কোম্পানির দুর্বল ব্যবস্থাপনা নিয়ে খারাপ খবরও শেয়ারের দাম কমিয়ে দিতে পারে।
অন্তর্নিহিত অ্যাসেটের মূল্য কম ধরে নির্ধারিত হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য বিনিয়োগকারীরা দুটি প্রধান কৌশল প্রয়োগ করতে পারেন।
কম দামে মূল্যায়িত শেয়ার শনাক্ত করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো এই ধরনের বিশ্লেষণ। পদ্ধতিটির ধারণা বেশ সহজ। একই খাত বা শিল্পের অনুরূপ একাধিক কোম্পানির বিভিন্ন মাল্টিপল তুলনা করতে হয়।
যেসব মাল্টিপল বিবেচনা করা যায়, সেগুলো হলো:
কম দামে মূল্যায়িত শেয়ার শনাক্ত করার আরেকটি কৌশল হলো DCF। এটি একটি জটিল পদ্ধতি, যা প্রয়োগ করতে অনেক সময় লাগে। ভবিষ্যতে কোম্পানির সম্ভাব্য ক্যাশ ফ্লো-এর ভিত্তিতে তার ভ্যালুয়েশন নির্ধারণ করাই এই পদ্ধতির মূল ধারণা।
বর্তমানে নতুনরাও সহজেই কম দামে মূল্যায়িত শেয়ার শনাক্ত করতে পারেন। Yahoo Finance-এর মতো কোম্পানি ও অনলাইন পরিষেবার কারণে এই প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে। এগুলো বিনামূল্যে স্ক্রিনার এবং অ্যাসেটের মূল্য মাপার গুরুত্বপূর্ণ সূচক দেয়।
স্ক্রিনার হলো ট্রেডারদের একটি টুল, যা আগে উল্লেখ করা মৌলিক মেট্রিকসহ বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে সহজে বিভিন্ন কোম্পানির তুলনা করতে সাহায্য করে। তাই, কম দামে মূল্যায়িত শেয়ার খুঁজতে চাইলে নিচের বিষয়গুলো দেখুন:
প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কম দামের শেয়ার কম মূলধনে বাজারে প্রবেশের সাশ্রয়ী ও সহজ উপায় হতে পারে, আর ভবিষ্যতে ভালো মুনাফা করার সম্ভাবনাও থাকে। এখানে মূল চ্যালেঞ্জ হলো এমন সম্পদ খুঁজে বের করা, যার মূল্য ভবিষ্যতে বাড়বে। বেশিরভাগ নতুন ট্রেডার এ ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন।
সৌভাগ্যবশত, আধুনিক অনলাইন পরিষেবা ও সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পদ্ধতি ব্যবহার করে ট্রেডাররা সহজেই প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কম দামের শেয়ার চিহ্নিত করে ট্রেড করতে পারেন। তবে ডে ট্রেডিংয়ের সঙ্গে এই কৌশলগুলো ব্যবহার করবেন না। এগুলো শুধু দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য কার্যকর।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।