
2023 সালের শেষ দুই সপ্তাহে ছুটির আমেজ বিরাজ করছে, বিশেষ করে বড় কোনো তথ্য বা ঘটনা না থাকায়। Fed-এর নীতিনির্ধারকদের সাম্প্রতিক কড়া মুদ্রানীতির পক্ষে অবস্থান, মিশ্র US তথ্য এবং চীনকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগও বাজারের গতিতে বাধা দিতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে, আগের দিনের সংশোধনমূলক উত্থান ধরে রাখতে পারেনি US Dollar Index (DXY), যা সাড়ে 4 মাসের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। এদিকে, US Treasury বন্ডের ইল্ড কয়েক মাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি রয়েছে। তবে, সহজ মুদ্রানীতির প্রতি ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) কর্মকর্তাদের অব্যাহত সমর্থন এবং 2024 সালে ফেডের সুদের হার কমানোর আশার মধ্যে USDJPY-তে স্পষ্ট কোনো দিক দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি, অর্থনৈতিক তথ্য কিছুটা ইতিবাচক হওয়ায় AUDUSD এবং NZDUSD তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে, আর USDCAD চাপে রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার সত্ত্বেও $2,055-60 রেজিস্ট্যান্স জোন পেরোতে না পারায় সোনার দাম দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। তবে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা এবং চীনের আরও প্রণোদনা দেওয়ার আশা—এই দুইয়ের জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো বাড়ছে।
তবে, Bitcoin লেনদেনের ফি বেড়ে যাওয়া এবং স্পট ETF অনুমোদনের প্রত্যাশায় অবস্থান নেওয়ার কারণে BTCUSD ও ETHUSD দর হারিয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



সাম্প্রতিক বৈঠকে কোনো পদক্ষেপ না নিলেও, 2024 সালের শুরুর দিকে সুদের হার কমানোর ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) পূর্বাভাসের পর মার্কিন ডলার চাপে রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হতাশাজনক ডেটা এবং বাজারের সতর্ক আশাবাদ ডলারের দরপতনের প্রবণতাকে আরও জোরালো করেছে। ফেডের ইঙ্গিত ও যুক্তরাষ্ট্রের ডেটার পাশাপাশি, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (BoE) এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) তুলনামূলক হকিশ অবস্থান, সেই সঙ্গে চীনের প্রণোদনার খবরও মার্কিন ডলারের দুর্বলতায় ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে গোল্ডের দাম তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে।
তবে উল্লেখ্য, আগের দিন মার্কিন ডলার ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিল। প্রধান অর্থনীতিগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য ততটা হতাশাজনক ছিল না। এ ছাড়া, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের মিশ্র খবরের পাশাপাশি সহজ মুদ্রানীতির পক্ষে BoJ-এর অবস্থান মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করেছে।
মার্কিন তথ্য প্রকাশের পর ফেডের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যে মতভেদ দেখা যায় এবং তাঁরা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাবে—এমন ডোভিশ প্রত্যাশার বিরোধিতা করেন। তাঁদের মধ্যে নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট John C. Williams বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, “আমি যে অগ্রগতি দেখতে চাই, তা হলে সুদের হার কমানো স্বাভাবিক হবে।” এ ছাড়া, আটলান্টা ফেডের প্রেসিডেন্ট Raphael Bostic শিগগির সুদের হার কমানোর বাজারের প্রত্যাশা নাকচ করেন, তবে 2024 সালে 0.25 পয়েন্ট করে দুবার হার কমানোর সম্ভাবনা দেখেন। অন্যদিকে, শিকাগো ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট Austan Goolsbee বলেন, “ল্যান্ডিং”-কে প্রভাবিত করতে পারে—এমন অনেক “উদ্বেগজনক তথ্য” এখনও রয়েছে। এর ফলে মার্কিন ডলারের বুলস উৎসাহ পায় এবং সোনার দামে একটি তল তৈরি হয়।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে চীনের কেন্দ্রীয় অর্থ দপ্তর বলেছে, “2024 সালে চীনের অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জের চেয়ে সুযোগ বেশি।” তবে, চীনে তীব্র শীতের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা ঠেকাতে দেশটির নীতিনির্ধারকেরা জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা সোনার ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।
ইউরোজোনের প্রভাবকগুলোর প্রসঙ্গে, জার্মানির Bundesbank ছয় মাস অন্তর প্রকাশিত অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। এতে 2023 সালে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হওয়ার এবং 2024 সালে উৎপাদন সামান্য বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) নীতিনির্ধারক ফ্রাঁসোয়া ভিলেরোয়া দ্য গালোর মন্তব্যও ইউরোর দরপতনের পক্ষে থাকা ট্রেডারদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছে, তবে সফল হয়নি। ECB-এর ভিলেরোয়া তাঁর কঠোর নীতির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “সর্বশেষ বৈঠকে কেউ সুদের হার কমানোর প্রস্তাব দেননি।” তবে নীতিনির্ধারক আরও বলেন, কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটলে পরবর্তী নীতিগত পদক্ষেপ হওয়া উচিত সুদের হার কমানো। একইভাবে, ECB-এর নীতিনির্ধারক রবার্ট হলৎসমানও বলেন, সর্বশেষ বৈঠকে সুদের হার পরিবর্তন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি আরও বলেন, “আমরা চূড়ান্ত সুদের হারে পৌঁছেছি—এ কথা বলব না, তবে সেই সম্ভাবনা বেড়েছে।” এছাড়া, ECB-এর নীতিনির্ধারক ও বুন্দেসব্যাংকের প্রধান ইয়োয়াখিম ন্যাগেল বলেন, “ECB-এর সুদের হার কমানোর কথা বিবেচনা করার সময় এখনও আসেনি।”
তবে, ডিসেম্বরে ইউরোজোনের প্রাথমিক PMI-এর দুর্বল পরিসংখ্যান শুক্রবার ইউরোর ক্রেতাদেরও চাপে ফেলেছে।
অন্যদিকে, Bank of Canada (BoC)-এর গভর্নর টিফ ম্যাকলেম বলেছেন, “কানাডায় সুদহার কমানো হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করার সময় এখনও আসেনি।” এই মন্তব্য এবং তেলের দামের পুনরুদ্ধার—দুটিই USDCAD-কে চাপে ফেলেছে।
OPEC+ আরও সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এ বিষয়টি এবং এশিয়ায় জ্বালানির চাহিদা বাড়ার আশা তেলের ক্রেতাদের পক্ষে কাজ করছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ভ্যালেন্তিনোভিচ নোভাক বলেন, ডিসেম্বরে প্রতিদিন প্রায় 50,000 ব্যারেল অতিরিক্ত তেল রপ্তানি কমানোর বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন।
ডিসেম্বরে জার্মানির IFO সেন্টিমেন্টের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি US NAHB হাউজিং মার্কেট ইনডেক্স ও কানাডার নিউ হাউজিং প্রাইস ইনডেক্স প্রকাশিত হবে, যা ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের নজর কাড়বে। বড় কোনো ডেটা বা ইভেন্ট না থাকা, বছরের শেষের ছুটির আমেজ এবং গত সপ্তাহে প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর 2024 সালে সুদের হার কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা—সবকিছুই সোমবার বাজারের ওঠানামা সীমিত করবে। এতে US Dollar সাম্প্রতিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারে। তবে USDJPY-তে গতি কম থাকতে পারে, কারণ জাপানে সম্প্রতি মুদ্রাস্ফীতির শক্তিশালী ইঙ্গিতের সঙ্গে দেশটির অতি-সহজ মুদ্রানীতি বজায় রাখার পছন্দের মিল নেই।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!