
অস্থির বুধবারের পর বৃহস্পতিবারে সাধারণত বাজারে নিষ্ক্রিয়তা দেখা যায়। তবে অস্ট্রেলিয়ার কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান ও চীনের বাণিজ্য পরিসংখ্যান প্রকাশিত হবে, পাশাপাশি থাকবে যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যানও।
এর পেছনের কারণ খুঁজতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য থেকে আগের ধারণার সমর্থন এবং Fed-এর নীতিগত মোড় নেওয়ার আরও স্পষ্ট সংকেত—সাম্প্রতিক নিষ্ক্রিয়তার সঙ্গে এই দুটির যোগ থাকতে পারে। একই প্রসঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোতে মৃদু মন্দার আলোচনা রয়েছে; এর বিপরীতে, ভারত ও চীনের নেতৃত্বে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে।
তবে, সর্বশেষ US CPI প্রত্যাশার চেয়ে কম আসায় এবং FOMC Minutes-এ নতুন কোনো চমক না থাকায় US ডলারের ওপর চাপ বজায় রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার আশঙ্কায় দুর্বল ইল্ডও ডলারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
USD দুর্বল থাকায় Gold টানা তৃতীয় দিনের মতো শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। তবে জানুয়ারির শেষ দিকের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলেও crude oil-এ ঊর্ধ্বমুখী গতির অভাব রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের তথ্য প্রত্যাশা পূরণ না করলেও—যার বেশির ভাগই নেতিবাচক—GBPUSD ধীরে ধীরে বাড়ছে। অন্যদিকে, ইউরোজোনের দ্বিতীয় সারির পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে EURUSD-এর দিকনির্দেশ স্পষ্ট নয়।
অস্ট্রেলিয়ার কর্মসংস্থানের জোরালো পরিসংখ্যানে G10 মুদ্রাজোড়াগুলোর মধ্যে AUDUSD সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সুইস ফ্রাঁর নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিতির কারণে USDCHF রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে।
অন্যদিকে, সাংহাই আপডেটের পর বিপুল পরিমাণ উত্তোলন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় $1,900-এর ওপরে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে ETHUSD। তবে আগের দিন চার দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতিতে বিরতি দেওয়ার পর BTCUSD আবার ঊর্ধ্বমুখী গতি ফিরে পেয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্য ও ফেডের বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের কারণে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্রিয় একটি দিনের পর বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার বাড়ানোর পথে বিরতি আসছে—ট্রেডাররা তা নিশ্চিত ধরে নেওয়ায় এমনটা হয়েছে। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার কর্মসংস্থানের তথ্যে অপ্রত্যাশিত ইতিবাচক চমক ট্রেডারদের মুগ্ধ করতে পারেনি, যদিও তা AUDUSD-কে চাঙ্গা করেছে। অন্যদিকে, মিশ্র তথ্য এবং মন্দার আশঙ্কা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগের কারণে চীনের বাণিজ্য-সংক্রান্ত তথ্য বেশির ভাগই উপেক্ষিত হয়েছে।
লক্ষ করার মতো বিষয় হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বর্তমান মুদ্রানীতির পক্ষে কথা বলতে শুরু করেছেন, তবে আর সুদের হার বাড়ানো থেকে বিরত রয়েছেন। এটি ইঙ্গিত দেয় যে নীতিমালা স্বাভাবিক করার সময় ঘনিয়ে এসেছে।
এ পরিস্থিতিতে, ওয়াল স্ট্রিটে Q1-এর মিশ্র আয়ের মৌসুমের মধ্যে শেয়ার ট্রেডারদের আশাবাদী থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বন্ড ট্রেডাররা সক্রিয় রয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডলার দুর্বল হওয়ায় পণ্যের আকর্ষণ আবার বাড়ছে, বিশেষ করে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে। চীনের শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের আশায় অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলোর দামও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
অন্যদিকে, প্রত্যাশিত দরপতন ETHUSD ও BTCUSD-এর ঊর্ধ্বমুখী গতি থামাতে না পারায় ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো তুলনামূলক মসৃণভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের CPI ও Core CPI-তে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির চাপ কমার ইঙ্গিত মিলেছে। এ বিষয়ে আরও ইঙ্গিতের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের ডোভিশ মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকবেন ট্রেডাররা, যাতে তারা মার্কিন ডলারে তাদের শর্ট পজিশন বাড়াতে পারেন। এ ছাড়া ওয়াশিংটনে IMF ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে প্রবৃদ্ধি নিয়ে দেওয়া মন্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!