
শুক্রবারের শুরুর দিকে NFP-এর আগে বাজার একত্রীকরণের পর্যায়ে যাচ্ছে। মার্কিন ডলারের ওপর চাপ থাকায় প্রধান মুদ্রাগুলো, অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রা ও কমোডিটির সঙ্গে, ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে মনে রাখা দরকার, ফেডের কড়া পদক্ষেপ এবং চীন নিয়ে উদ্বেগের কারণে ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ এখনো কম। আগের দিনের ইতিবাচক মার্কিন কর্মসংস্থানের ইঙ্গিত এবং বেইজিং থেকে আসা সাম্প্রতিক খবরের পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ফলে USD বাদে অন্যান্য মুদ্রার ঊর্ধ্বগতিও সীমিত রয়েছে।
এতে, ডলারের বিপরীতে USDJPY সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, আর USDCHF ও USDCAD স্পষ্ট দিক খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে, তিন দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো সোনার দাম দৈনিক ভিত্তিতে বেড়েছে। ব্রেন্ট তেলও সামান্য লাভ ধরে রেখে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিটের গতিপথ ও দুর্বল মার্কিন শেয়ারবাজারের পরিসংখ্যান অনুসরণ করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজার সামান্য নিম্নমুখী। তবে আগের দিন কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে ওঠার পর বন্ড ইল্ডে আর ঊর্ধ্বমুখী গতি দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে, সাপ্তাহিক সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে BTCUSD ও ETHUSD টানা তিন দিনের দরপতনের ধারা ভেঙেছে। প্রাতিষ্ঠানিক ক্রয় এবং ETF-এর মাধ্যমে আরও অর্থপ্রবাহের আশায় ট্রেডাররা সাম্প্রতিক লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নিচ্ছেন।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের উত্তেজনা এবং বেইজিং ও জার্মানিতে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা বাজারের মনোভাবে চাপ সৃষ্টি করলেও, ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা থেকে মার্কিন ডলার লাভবান হচ্ছে না। বৃহস্পতিবারের ইতিবাচক US ADP Employment Change এবং ISM Services PMI-ও মার্কিন ডলারের পক্ষে যাওয়ার কথা ছিল। তবে ইতিবাচক বন্ড ইল্ড উপেক্ষা করেও গ্রিনব্যাক টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দুর্বল রয়েছে। এর কারণ হতে পারে জুনের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ডেটার আগে বাজারের পজিশন নেওয়া।
US Dollar-এর দাম বাড়তে না পারায় Gold Price সাপ্তাহিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিয়েছে—টানা চতুর্থ সপ্তাহের ক্ষতির পর। XAUUSD-কে আরও সহায়তা করছে এই উদ্বেগ যে, সামগ্রিক অর্থনৈতিক হতাশার মধ্যে Fed-এর সুদের হার বাড়ানোর ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় US Dollar-এর সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি সন্দেহজনক।
অন্যদিকে, সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতায় তেলের দাম লাভবান হয়েছে। এদিকে, চীন থেকে আসা নেতিবাচক খবরের মধ্যে শেয়ারবাজার আগের মাসের লাভের কিছুটা হারিয়েছে।
এছাড়া, শিল্পের নেতারা US SEC-এর সঙ্গে লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ায় ক্রিপ্টো ট্রেডাররা কঠোর নিয়মকানুন নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে, ফান্ডের প্রবাহ বাড়ার আশা এবং সম্প্রতি মার্কিন ডলারের দুর্বলতা ট্রেডারদের সাপ্তাহিক লোকসান কিছুটা কমাতে সাহায্য করছে।
বাজারে অস্থিরতা থাকলেও, প্রবণতা সম্পর্কে স্বল্পমেয়াদি ধারণা পেতে ট্রেডাররা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কর্মসংস্থানের তথ্যের দিকে নজর রাখবেন। যুক্তরাষ্ট্রের NFP এবং অন্যান্য চাকরির সূচক জুলাইয়ের পরও ফেডের কড়া পদক্ষেপের পক্ষে গেলে, মার্কিন ডলার দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী গতি ফিরে পেতে পারে এবং অন্যান্য তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান ইতিবাচক হলে USDCAD-এর দাম বাড়তে কানাডার দুর্বল কর্মসংস্থানের তথ্য প্রয়োজন।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!