
বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে সুদের হার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা বাড়ছে। এর ফলে সোমবার দিনের শুরুতে, বিশেষ করে এশিয়ার শান্ত সেশনে, মার্কিন ডলারের ওপর চাপ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ এবং গাজায় উত্তেজনা নিয়ে চলমান ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ সত্ত্বেও ডলার শক্তি ফিরে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে, সপ্তাহান্তে চীন বেশ কয়েকটি হতাশাজনক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে সোমবার বেইজিং ও টোকিওতে ছুটি থাকায় বাজারে এর প্রতিক্রিয়া সীমিত। সেপ্টেম্বরের মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে ট্রেডাররা বুধবারের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (FOMC) বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ মার্কিন ডলারকে কিছুটা সহায়তা দিলেও, ফেডারেল রিজার্ভ 0.50% সুদের হার কমাতে পারে—বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশায় ডলার দুর্বলই রয়েছে। ফলে, শুক্রবার University of Michigan (UoM)-এর ইতিবাচক Sentiment তথ্য উপেক্ষা করে দুর্বল মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের ইঙ্গিতের কারণে US Dollar Index (DXY) টানা তিন দিন ধরে কমছে।
শুক্রবার, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) কয়েকজন কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট Christine Lagarde-এর ধাপে ধাপে সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থানের সঙ্গে একমত হন। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের ওপর চলমান চাপ সত্ত্বেও, এই অবস্থান EURUSD-এর ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তোলে। তবে, জুলাইয়ে ইউরোজোনের শিল্প উৎপাদনের ইতিবাচক তথ্য থেকে ইউরোর কিছুটা সমর্থন মেলে। এ হার ছিল -0.3%, যেখানে আগেরবার ছিল -0.5%। এই উন্নতি ইউরোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে, কারণ বাজার ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর অপেক্ষায় রয়েছে। এর ফলে, ইউরো পেয়ারটি 1.1120-এর আশেপাশে থাকা তিন সপ্তাহ ধরে নিম্নমুখী রেজিস্ট্যান্স লাইনের কাছে পৌঁছেছে।
যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ এবং বৃহস্পতিবার Bank of England-এর সতর্ক অবস্থানের প্রত্যাশা GBPUSD ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলছে। যদিও তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির পর এই কারেন্সি পেয়ারটির দাম সামান্য বেড়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাজ্যের বাড়ির দামের সূচক সেপ্টেম্বরে 2016 সালের পর সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি দেখিয়েছে। অন্যদিকে, Bank of Japan-কে ঘিরে জোরালো প্রত্যাশা এবং ফেডের 50 basis points সুদের হার কমানোর ক্রমবর্ধমান জল্পনার কারণে USDJPY-তে বিক্রেতারাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন।
FOMC বৈঠকের আগে সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির পর মার্কিন ডলারের দুর্বলতা থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে AUDUSD। এদিকে, চীন ও নিউজিল্যান্ডের হতাশাজনক তথ্য সত্ত্বেও গত সপ্তাহের ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছে NZDUSD। বিপরীতে, কানাডা ব্যাংকের (BoC) গভর্নর সপ্তাহান্তে Financial Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক অবস্থান নিলেও, USDCAD-এর টানা দুই সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থেমেছে। এ ছাড়া, ক্রুড অয়েলের দাম সম্প্রতি আর না বাড়ায় কানাডিয়ান ডলারের সাম্প্রতিক শক্তির ওপর চাপ পড়ছে।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে 2023 সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামার পর অপরিশোধিত তেল টানা তিন সপ্তাহের দরপতনের ধারা ভেঙেছে। তবে, সপ্তাহান্তে চীন থেকে আসা তথ্য এবং OPEC+-এর উৎপাদন বাড়ার আশঙ্কা তেলের দামে আরও বৃদ্ধিকে সীমিত করছে।
এই সপ্তাহে Fed, BoE ও BoJ-সহ প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে বাজারে উদ্বেগ এবং ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে সোনা লাভবান হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, দাম $2,600-এর কাছাকাছি পৌঁছানোয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা সীমিত বলে মনে হচ্ছে।



আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কা ক্রিপ্টো ক্রেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, বিশেষ করে মার্কিন নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে। এর ফলে, সাম্প্রতিক সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির পর Bitcoin (BTCUSD) এবং Ethereum (ETHUSD)—উভয়ের দামই টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে। তবে, Ethereum নেটওয়ার্কে কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ায় Ethereum ক্রেতাদের বাধা কম হতে পারে—এ বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।
সামনে কানাডা ও যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির তথ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের Empire State Manufacturing Index এবং খুচরা বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্যের দিকেও বুধবারের FOMC বৈঠকের আগে ট্রেডারদের নজর থাকবে। Fed নরম নীতি নিতে পারে—এমন প্রত্যাশার কারণে Fed-এর সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে মার্কিন ডলারের আরও দরপতন হতে পারে। তবে Fed যদি সুদের হার 25 basis points কমায় এবং আরও নরম নীতির ইঙ্গিত না দেয়, তাহলে USD-এর কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহায়তা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে Gold-এর দাম কমতে পারে এবং EURUSD-এর ওপর চাপ পড়তে পারে। এদিকে, Bank of England (BoE) ও Bank of Japan (BoJ)-এর বৈঠকের আগে GBPUSD এবং USDJPY-তে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। চীন নিয়ে উদ্বেগ এবং বাজারের সতর্ক মনোভাবের কারণে Australian ও New Zealand Dollar-এর মতো মুদ্রাগুলোও সাম্প্রতিক কিছু লাভ হারাতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!