
যুক্তরাজ্য ও জাপানে ছুটির কারণে সোমবারের শুরুতে ট্রেডিংয়ের গতি কম রয়েছে। চীন ও US থেকে আসা মিশ্র প্রভাবও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তবে Fed সেপ্টেম্বরে সুদের হার কমাতে পারে—এই সম্ভাবনা ক্রমেই বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠায় সতর্ক আশাবাদ দেখা যাচ্ছে।
এতে, সামান্য দরবৃদ্ধির ফলে US Dollar Index (DXY) দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতনের কিছুটা পুষিয়ে নিয়েছে। একই সময়ে, US stock futures ওয়াল স্ট্রিটের ইতিবাচক পারফরম্যান্সের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) বিষয়ে কড়া নীতির প্রত্যাশা এবং Fed নিয়ে হতাশাজনক আলোচনা চলার মধ্যে, এক মাসের সর্বোচ্চ স্তর থেকে শুক্রবারের পতন কাটিয়ে EURUSD-এ কেনার আগ্রহ বাড়ছে। এদিকে, ব্রিটিশ ছুটি থাকা সত্ত্বেও GBPUSD টানা চার দিন ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে—বিশেষ করে শুক্রবারের শক্তিশালী যুক্তরাজ্যের PMI এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও কার্যকলাপের তথ্য হতাশাজনক হওয়ার পর।
G10 মুদ্রাজোড়াগুলোর মধ্যে USDJPY সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, কারণ ট্রেডাররা মনে করছেন ইয়েনকে রক্ষায় জাপান আর হস্তক্ষেপ করবে না।
এবার অন্যদিকে, টানা তিন দিনের দরবৃদ্ধির পর AUDUSD-এর গতিপথ অনিশ্চিত। মিশ্র সংকেতের মধ্যে ট্রেডাররা এ সপ্তাহের অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংকের (RBA) সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। উল্লেখ্য, NZDUSD-এর দর ধরে রাখতে পারছে না, আর USDCAD-ও শক্তিশালী মার্কিন ডলারের প্রভাবে রয়েছে। এ ছাড়া, ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কিছুটা বাড়ায় এবং মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধার নিয়ে আস্থার অভাবে স্বর্ণ ও অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে, গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক লাভের পর BTCUSD সামান্য বেড়েছে। ETHUSD-ও সামান্য লাভের ফলে সাপ্তাহিক লোকসান কমিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের SEC-এর কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও স্পট ETF অনুমোদন নিয়ে ক্রিপ্টো ক্রেতারা আশাবাদী বলে মনে হচ্ছে, যা তহবিল প্রবাহ বাড়িয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



শুক্রবারের যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপের তথ্য মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও সোমবারের শুরুর দিকে ডলার ঘুরে দাঁড়ায়। Fed-এর কয়েকজন কর্মকর্তা মুদ্রানীতি অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ফিরে আসা এবং হালকা অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারের পাশাপাশি জাপান ও যুক্তরাজ্যে ছুটির কারণে বাজারের আগের গতিবিধি একীভূত হওয়াও মার্কিন ডলারের ক্রেতাদের পক্ষে যেতে পারে।
শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের Nonfarm Payrolls (NFP)-এর প্রধান পরিসংখ্যান পাঁচ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে, আর Average Hourly Earnings-ও কমেছে। এদিকে, বেকারত্বের হার বেড়ে 3.9% হয়েছে, যেখানে 3.8% অপরিবর্তিত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
NFP-তে দুর্বল ফল এবং মজুরি বৃদ্ধির গতি কম থাকার পাশাপাশি, এপ্রিলে মার্কিন ISM Services PMI-এর হতাশাজনক পরিসংখ্যানও মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এপ্রিলে ISM Services PMI 2022 সালের ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে 49.4-এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে পূর্বাভাস ছিল 52.0 এবং আগের মান ছিল 51.2। তবে, মূল্য পরিশোধের উপাদানটি 53.4 থেকে বেড়ে 59.2 হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হতাশাজনক তথ্য প্রকাশের পর, শিকাগো ফেডের গভর্নর অ্যালান গুলসবি বলেন, এ ধরনের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন আমাদের এই আস্থা দেবে যে অর্থনীতি অতিরিক্ত উত্তপ্ত হচ্ছে না। তাঁর মন্তব্যে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা কমেছে। এর বদলে, সেপ্টেম্বরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে।
দিনের শুরুতে চীনের এপ্রিলের Caixin Services PMI 52.7 থেকে কমে 52.5 হয়েছে। তবে পরিষেবা খাতের কার্যক্রম টানা 16 মাস ধরে সম্প্রসারিত হয়েছে। এর আগে ওই মাসে সরকারি Non-Manufacturing PMI-ও 53.0 থেকে কমে 51.2-তে নেমেছিল। এসব তথ্য ড্রাগন অর্থনীতি নিয়ে বাজারের আশাবাদে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং USD ক্রেতাদের পক্ষে যেতে পারে।
মার্কিন ডলারের দর পুনরুদ্ধার হলেও, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) এক কর্মকর্তার কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং ইউরোজোনের ইতিবাচক তথ্যের মধ্যে EURUSD-এর দর কমেনি। সপ্তাহান্তে ECB-র প্রধান অর্থনীতিবিদ ফিলিপ লেন জানান, মূল্যস্ফীতি ও GDP-র সাম্প্রতিক উন্নতির কারণে সুদের হার কমানোর পক্ষে তাঁর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তবে নীতিনির্ধারক আরও বলেন, এখন থেকে জুনের মধ্যে আরও তথ্য পাওয়া যাবে, যা পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে প্রকাশিত ব্লকের অর্থনৈতিক তথ্য GDP-র উন্নতি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমার ইঙ্গিত দিয়েছে।
এদিকে, জাপানে ছুটি থাকা সত্ত্বেও G10 মুদ্রাজোড়াগুলোর মধ্যে USDJPY-তে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। এর কারণ হতে পারে বাজারের এই প্রত্যাশা যে Bank of Japan (BoJ) আর সুদের হার কমাবে না, পাশাপাশি ইয়েনকে (JPY) রক্ষায় জাপানের বাজারে হস্তক্ষেপের ব্যাপক সমালোচনা। সপ্তাহান্তে, ইয়েনের দর বেড়ে যাওয়ার পর মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন US Treasury Secretary Janet Yellen।
নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি নিয়ে বার্ষিক পর্যালোচনায় Organisation for Economic Co-operation and Development (OECD) বলেছে, এ বছর Reserve Bank of New Zealand (RBNZ)-এর সুদের হার কমানোর সুযোগ সীমিত। এর সঙ্গে চীনের দুর্বল তথ্য এবং মার্কিন ডলারের সংশোধনমূলক উত্থান NZDUSD-কে চাপে রেখেছে।
অন্যদিকে, চীনের খবর এবং US Dollar-এর ঘুরে দাঁড়ানোর কারণে AUDUSD-ও চাপে রয়েছে। তবে, AUD ট্রেডাররা মঙ্গলবারের Reserve Bank of Australia (RBA)-এর মুদ্রানীতি-সংক্রান্ত ঘোষণার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ায় দরপতনের গতি সীমিত রয়েছে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার ট্রেজারার Jim Chalmers সোমবার দিনের শুরুতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, দেশটি আবারও বাজেট উদ্বৃত্তের কাছাকাছি রয়েছে। এতে AUD জোড়ার দরপতনের একটি তল তৈরি হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি, এপ্রিলে অস্ট্রেলিয়ার Job Vacancies-এর ইতিবাচক পরিসংখ্যান—মাসওভারমাস 2.8%, আগের -1.0%-এর বিপরীতে—ঝুঁকির প্রতি সংবেদনশীল এই জোড়াটিকে কিছুটা উপরে উঠতেও সাহায্য করেছে।
সৌদি আরব টানা তৃতীয় মাসের মতো এশিয়ার গ্রাহকদের জন্য Arab Light Crude-এর দাম বাড়ালেও অপরিশোধিত তেল মার্কিন ডলারের পুনরুদ্ধারে সাড়া দিচ্ছে না। সাত সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে এটি একটি সংশোধনমূলক উত্থান দেখাচ্ছে। কালো সোনার এই পুনরুদ্ধারে গাজা আলোচনা ঘিরে সাম্প্রতিক পরিবর্তনও ভূমিকা রাখছে। জিম্মিদের ফেরত দেওয়ার আগে যুদ্ধের অবসান ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য হামাসের চাপের কারণে যুদ্ধবিরতির আশা কমে গেছে।
এদিকে, সোমবার জাপান ও যুক্তরাজ্যের ট্রেডাররা বাজারে না থাকায় এবং অন্যান্য অঞ্চলেও অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সূচক না থাকায় বাজারের ওঠানামা সীমিত থাকতে পারে। তা সত্ত্বেও, এপ্রিলে ইউরোজোনের PMI-এর চূড়ান্ত পরিসংখ্যান এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) প্রেসিডেন্ট Christine Lagarde ও সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (SNB) চেয়ারম্যান Thomas Jordan-এর বক্তব্য মোমেন্টাম ট্রেডারদের আগ্রহী করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের UoM ভোক্তা আস্থা ও মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশার প্রাথমিক পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে থাকবে। পাশাপাশি, RBA ও BoE-এর মুদ্রানীতির বৈঠকও সামনে বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বাজার সম্প্রতি ফেডের সেপ্টেম্বরের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাকে মেনে নেওয়ায়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা না বাড়লে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পণ্যদ্রব্যের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রাগুলোও সহায়তা পেতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!