প্রত্যেক ট্রেডারই সম্ভাব্য ক্ষতি কমানোর সুযোগ খোঁজেন। বিভিন্ন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার টুল ব্যবহার করে বিনিয়োগকারীরা তাদের মূলধন সুরক্ষিত রাখতে পারেন এবং ব্যর্থতার ঝুঁকি ছাড়াই বাজারে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারেন। ঝুঁকি সামলানোর জন্য স্টপ লস সেট করা সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলোর একটি।

তবে, বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের স্টপ লস থেকে সুবিধা পেতে পারেন। স্টপ লিমিট ও স্টপ লস মার্কেটের পার্থক্য না জানলে বিষয়টি নতুনদের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। দুটি টুলই একই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করে, তবে পদ্ধতি কিছুটা আলাদা। এই টুলগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করে অর্থ হারানোর ঝুঁকি কমাতে, প্রতিটি ধরনের স্টপ লসের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। এতে কোনটি বেছে নেওয়া ভালো এবং কেন, তা ঠিক করতে আপনার সুবিধা হবে।
আপনি আগে কখনও সাধারণ স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার করে থাকলে, স্টপ লস মার্কেট অর্ডার আপনার কাছে বিভ্রান্তিকর মনে হবে না, কারণ দুটো আসলে একই। প্রথমে জেনে রাখুন, স্টপ-লস মার্কেট অর্ডার প্রধানত 2 ধরনের হতে পারে: বাই এবং সেল।
দুটি টুলই একইভাবে কাজ করে। আপনি শর্ট বা লং পজিশনে বাজারে প্রবেশের আগে উপলভ্য সব পজিশন সুরক্ষিত রাখতে এগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন।



স্টপ-লিমিট ও স্টপ লস মার্কেটের পার্থক্য বুঝতে গিয়ে বেশিরভাগ নতুন ট্রেডার বিভ্রান্ত হন, কারণ দুটি টুল প্রায় একইভাবে কাজ করে। তবে এর মানে এই নয় যে দুটির ধরনও একই। নাম থেকেই বোঝা যায়, স্টপ-লিমিট অর্ডার সক্রিয় হওয়ার সময়ের দাম সীমাবদ্ধ করে। স্টপ-লস লিমিটের ক্ষেত্রে, আমাদের প্রধানত 2 ধরনের দাম নির্দিষ্ট করতে হয়:
এই টুলের প্রধান অসুবিধা হলো, এটি 100% এক্সিকিউশনের নিশ্চয়তা দেয় না। অন্য কথায়, স্টকের দাম দ্রুত কমলে বা বাড়লে, স্টপ-লিমিট আপনার প্রত্যাশামতো কাজ নাও করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনার অন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার টুলের প্রয়োজন হতে পারে।
স্টকের দাম লিমিটের নিচে নেমে গেলে কী করবেন, তা নিয়ে অনেক নতুন ট্রেডারের আরেকটি প্রশ্ন থাকে। তাদের কি লিমিট অর্ডার বাতিল করে দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত? এ ক্ষেত্রে তারা নিরাপদে ও সুরক্ষিতভাবে বাজার থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হারাতে পারেন। অন্যদিকে, দ্রুত দাম ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করলে, কিছু ট্রেডার নির্দিষ্ট লিমিট প্রাইসে অ্যাসেট বিক্রি করতে নাও চাইতে পারেন।
ফলে, যারা নিজের ঝুঁকিতে শর্ট পজিশন নিয়ে দাম বাড়ার অপেক্ষা করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য স্টপ-লস লিমিট ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল বলে মনে হতে পারে।
স্টপ-লিমিট ও স্টপ লস মার্কেটের পার্থক্য নির্ধারণ করে এমন সব প্রধান দিকসহ এই চার্টটি দেখে নিন।
স্টপ লস মার্কেট
স্টপ-লিমিট
দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছালে বা কমতে থাকলে সক্রিয় হয়
ট্রেড চলাকালে আরও ক্ষতি ঠেকাতে সাহায্য করে
দাম লিমিটে পৌঁছালে সক্রিয় হয়, তবে পজিশন লিমিটের চেয়ে ভালো থাকে।
লোকসান থেকে 100% সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না।
ট্রেডারদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লোকসান হতে পারে
দাম আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে শিগগিরই বাড়তে শুরু করবে—এটা জানলে এই পদ্ধতি ভালো কাজ করে।
স্টপ-লিমিট অর্ডার এবং স্টপ-লস মার্কেট অর্ডারের মূল পার্থক্য হলো, বাজারে প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় পজিশন সুরক্ষিত রাখতে এগুলো ভিন্ন উপায় দেয়। ভালো দিক হলো, স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের ট্রেডারের জন্যই এগুলো উপযোগী। খারাপ দিক হলো, দাম যে আবার ঘুরে দাঁড়াবে তা নিশ্চিতভাবে না জানলে এগুলোর কিছু লোকসান ঠেকানোর নিশ্চয়তা দেয় না।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।