
গত সপ্তাহের অস্থিরতার পরবর্তী দিক বুঝতে ট্রেডাররা আরও ডেটা ও ঘটনার অপেক্ষায় থাকায় সোমবার দিনের শুরুতে বাজার শান্ত রয়েছে। চীনের আরও প্রণোদনা দেওয়ার সম্ভাবনা এবং Fed-এর কড়া অবস্থানপন্থীদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ঝুঁকি-অনুভূতিকে সামান্য ইতিবাচক রেখেছে; বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডার হালকা থাকায়। এতে US Dollar-এর বুলিশ ট্রেডাররা চাপে পড়ছেন এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট সাম্প্রতিক লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এদিকে, Bank of Japan-এর আক্রমণাত্মকভাবে সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা কমায় USDJPY ধীরে ধীরে বাড়ছে।
তবে, সাংহাইয়ে আবাসন লেনদেনের ওপর কয়েকটি কর কমানোর ঘোষণা দিয়ে চীন বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। এদিকে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালাতে ইউক্রেনকে দূরপাল্লার মার্কিন অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা বাজারের মনোভাবকে চাপে ফেলেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রি ও শিল্প উৎপাদনের মিশ্র তথ্য ফেডের কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রত্যাশা কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে, FOMC সদস্যরা সুদের হার কমানোর গতি ধীর করার পক্ষে সমর্থন দিতে দ্বিধায় ছিলেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বুলিশ ট্রেডাররা চাপে পড়েন এবং অন্যান্য প্রধান মুদ্রা, কমোডিটি ও অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলো সাপ্তাহিক ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। তা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ইনডেক্স (DXY) সেপ্টেম্বরের শেষ দিকের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধি রেকর্ড করে। এর ফলে সোনার দাম ২০২১ সালের জুনের পর সবচেয়ে বেশি কমে যায়। তাই EURUSD, GBPUSD, AUDUSD ও NZDUSD-এর দর কমেছে; USDJPY কিছুটা বেড়েছে, USDCAD বেড়েছে এবং ক্রুড অয়েলের দাম কমেছে।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতায় EURUSD এবং GBPUSD-এর বিক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ECB) কর্মকর্তাদের ডোভিশ মন্তব্য এবং যুক্তরাজ্যের মিশ্র তথ্যের কারণে এই জুটিগুলোর দরপতন থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সীমিত রয়েছে। এ ছাড়া, জার্মানিতে মন্দার বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের পূর্বাভাস এবং শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের দুর্বল প্রবৃদ্ধির তথ্য ইউরো (EUR) ও ব্রিটিশ পাউন্ডের (GBP) ওপর আরও নিম্নমুখী চাপ তৈরি করছে।
USDJPY আগের দিন সাত সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছিল। মিশ্র মার্কিন তথ্য প্রকাশের পর বাজারে হস্তক্ষেপের জল্পনা এবং মার্কিন ডলারের দরপতন এর পেছনে ভূমিকা রাখে। তবে সোমবার ইয়েন পেয়ারটি ঘুরে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরে জাপানের দুর্বল মেশিনারি অর্ডারের মধ্যে সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কুরোদার সতর্ক অবস্থান এতে সহায়তা করে। কুরোদা জাপানে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং অর্থনীতির মাঝারি পুনরুদ্ধারের কথা স্বীকার করেন, তবে কিছু দুর্বলতার লক্ষণও তুলে ধরেন। সুদের হার বাড়ানোর আগে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।
মার্কিন ডলারের দরপতন এবং চীনের প্রণোদনা প্যাকেজের খবর AUDUSD এবং NZDUSD-কে সাম্প্রতিক দরপতন থামাতে সহায়তা করছে। তবে পুনরুদ্ধার কতটা টেকসই হবে, তা অনিশ্চিত। RBA-র নীতিনির্ধারক কেন্ট ট্রেডারদেরকে তাঁর কঠোর অবস্থানে আস্থাশীল করতে হিমশিম খাচ্ছেন, আর নিউজিল্যান্ডের তথ্যও মিশ্র। ইতিবাচক দিক হলো, নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় প্রান্তিকের PPI-এর ইনপুট ও আউটপুট—দুটিই উন্নত হয়েছে। অক্টোবরে দেশটির Services PMI-ও বেড়েছে। তবে প্রকৃত আউটপুট এখনও আশাবাদী প্রত্যাশার তুলনায় কম।
এদিকে, কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য ক্রুড অয়েলের দুর্বল পারফরম্যান্স এবং এই সপ্তাহের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে Bank of Canada (BoC)-র নরম অবস্থানের পূর্বাভাস USDCAD-কে চাঙ্গা করছে। ফলে, লুনি পেয়ারটি সামান্য উঁচুতে রয়েছে এবং 2020 সালের মে মাসের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ট্রেড করছে।



সোনা টানা পাঁচ দিনের দরপতনের ধারা ভেঙে গত সপ্তাহে তৈরি তিন মাসের সাপোর্ট লেভেলের ওপরে রয়েছে। তবে এটি এখনও গুরুত্বপূর্ণ নয় মাসের রেজিস্ট্যান্স লাইনের নিচে, তাই বিক্রেতারা সতর্ক রয়েছেন। একইভাবে, ক্রুড অয়েল শুক্রবারের তীব্র দরপতনের পরও চাপে রয়েছে। OPEC নিয়ে উদ্বেগ এবং মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে আসা মিশ্র ভূরাজনৈতিক সংকেত দামের ওপর চাপ তৈরি করছে।
বিটকয়েন (BTCUSD) সামান্য বেড়েছে এবং গত সপ্তাহের সর্বকালের সর্বোচ্চ দরের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে, ইথেরিয়াম (ETHUSD) এক সপ্তাহের দরপতনের পর সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ক্রিপ্টো বিনিয়োগকারীরা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি নিয়ে আশাবাদ ধরে রাখতে নতুন অগ্রগতির অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে ইউরোপে আরও কঠোর নিয়মকানুন এই তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
গত সপ্তাহের তুলনায় এবার অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন কিছু নেই। শুক্রবার নভেম্বরের প্রাথমিক PMI প্রকাশের আগে বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এমন ঘটনাও কম। তবে BOJ গভর্নর কুরোদা, ECB প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড এবং FOMC-এর কয়েকজন মধ্যম পর্যায়ের সদস্যের বক্তব্যের পাশাপাশি কানাডা ও যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির তথ্য ট্রেডারদের নজর কাড়বে। অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডার শান্ত থাকলে এবং মিশ্র খবর এলে US Dollar সাম্প্রতিক কিছু দরবৃদ্ধি হারাতে পারে। তবে নিজস্ব নেতিবাচক প্রভাবকগুলোর কারণে প্রধান মুদ্রাগুলো উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা কম। সোনার দর আগের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারে, কিন্তু দুর্বল চাহিদা ও বাড়তি সরবরাহের উদ্বেগে ক্রুড অয়েলের ওপর চাপ থাকতে পারে। এ ছাড়া, ট্রাম্পের নির্বাচনে জয়ের পর নতুন ইতিবাচক খবর তেমন না থাকায় ক্রিপ্টোকারেন্সির দরও কমতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!