
যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান এবং ইউয়ান স্থিতিশীল রাখতে চীনের প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে বাজারের মনোভাব অস্থির হয়েছে এবং মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে। এ ছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি নিয়ে উদ্বেগও এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতি ও খুচরা বিক্রির তথ্য প্রকাশের আগে মার্কিন ডলার ও সোনার দামকে শক্তিশালী রেখেছে।
মার্কিন ডলার শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও তেলের ক্রেতারা সক্রিয় ছিলেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য রাশিয়ার জ্বানি রপ্তানিতে আরও নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।
জাপানে ছুটি থাকা সত্ত্বেও USDJPY টানা তিন দিনের পতনের মুখে, আর EURUSD ও GBPUSD কয়েক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
AUDUSD ও NZDUSD টানা পঞ্চম দিনের মতো কমেছে, আর তেলের দাম শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও USDCAD টানা পাঁচ দিন বেড়েছে। এদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে এবং শেয়ারবাজারও নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের শক্তি এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ECB) নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি ইউরোজোনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা EURUSD-কে টানা পঞ্চম দিনের মতো নিচে ঠেলে দিয়েছে। 2022 সালের নভেম্বরের পর এটি সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও USDJPY টানা তৃতীয় দিনের দরপতনের মুখে রয়েছে। জাপানে মজুরি বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার পর 2025 সালে ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন উদ্বেগও জোরদার হচ্ছে।
প্রধান মুদ্রা জোড়াগুলোর মধ্যে GBPUSD দিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন দেখিয়েছে। টানা পতনের ধারা পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে, আর দর নেমেছে 2023 সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির নরম ইঙ্গিতের কারণে পাউন্ড দুর্বল হয়েছে।
দরপতনের পেছনে আরও রয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (BoE) কড়া অবস্থান নিয়ে সন্দেহ এবং ব্রিটেনে চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। দিকনির্দেশনার জন্য ট্রেডাররা এখন সপ্তাহের শেষের দিকে প্রকাশিত হতে যাওয়া যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অপেক্ষায়।
শক্তিশালী হয়ে ওঠা মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান, নিউজিল্যান্ড ও কানাডিয়ান ডলারের দরপতন টানা পঞ্চম দিনেও অব্যাহত রয়েছে। Fed-এর সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা কমে আসা এবং 2025 সালে সুদের হার বাড়তে পারে—এমন নতুন বাজির কারণে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হচ্ছে।
চাপ আরও বাড়িয়েছে চীনের অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ এবং অস্ট্রেলিয়া-চীন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা প্রকাশের আগে সতর্ক অবস্থান। এতে AUDUSD ও NZDUSD চাপে পড়েছে, আর USDCAD শক্তিশালী হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, কানাডার অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য ক্রুড অয়েলের দাম বাড়লেও দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং গত সপ্তাহের মিশ্র কানাডিয়ান ডেটার কারণে ব্যাংক অব কানাডা আরও সুদের হার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা বাড়ছে। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি কানাডিয়ান ডলারকে (Loonie) সমর্থন জোগাতে পারেনি।



এক মাসের সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি ওঠানামা করছে সোনার দাম। বাজারের অনিশ্চয়তা প্রথাগত নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ালেও, শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে পাঁচ দিনের দরবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশা এবং ভারত ও চীনে বাড়তি চাহিদা সোনার আকর্ষণ আরও বাড়াচ্ছে।
এদিকে, দিনের লেনদেনে ক্রুড অয়েলের দাম 1%-এর বেশি বেড়ে নয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। রাশিয়ার রপ্তানির ওপর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পর জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেলের মজুত কমে যাওয়া এবং সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্তের মেয়াদ বাড়ানোর OPEC+-এর সিদ্ধান্তও তেলের দামে বাড়তি সহায়তা দিচ্ছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সিকেন্দ্রিক প্রথম সিনেট উপকমিটি গঠনের ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা সত্ত্বেও বিটকয়েন (BTCUSD) এবং ইথেরিয়াম (ETHUSD) চাপের মধ্যে রয়েছে। বাজারের সতর্ক মনোভাব এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে উল্লেখযোগ্য ETF তহবিল প্রবাহ এবং মিশ্র অন-চেইন ডেটার ইতিবাচক প্রভাব ঢাকা পড়ছে।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য না থাকায় সপ্তাহের শুরুটা বাজারে শান্ত হতে পারে, যা সাম্প্রতিক মার্কিন ডলারের উত্থানকে সাময়িকভাবে থামাতে পারে। তবে, Federal Reserve-এর হকিশ অবস্থানের প্রত্যাশা এবং যুক্তরাষ্ট্রের Consumer Price Index (CPI) ও Retail Sales-এর সম্ভাব্য শক্তিশালী তথ্য Greenback-এর ক্রেতাদের আশাবাদী রাখতে পারে।
এ ছাড়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মিশ্র অর্থনৈতিক তথ্য EURUSD, GBPUSD এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কারেন্সি পেয়ারে আরও চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, আগে উল্লেখ করা নিজ নিজ অনুঘটকের সহায়তায় USDJPY ও সোনার দাম শক্ত অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!