
মঙ্গলবারের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ বাজার ফিরে আসায় বাজারের মনোভাব অস্থির হয়ে উঠেছে। ট্রেডাররা চীনকে ঘিরে আশাবাদ নতুন করে পর্যালোচনা করছেন, বিশেষ করে পিপলস ব্যাংক অব চায়নার (PBoC) সুদের হার কমানোর পর। মধ্যপ্রাচ্যের খবর এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (Fed) সুদের হার কমানো পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ক্রমবর্ধমান নিশ্চিতকরণও বাজারের মনোভাবে চাপ বাড়াচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, মার্কিন ডলার সূচক (DXY) টানা চার দিনের পতন ভেঙে সংবাদ প্রকাশের সময় 104.40-এর কাছাকাছি সামান্য বেড়েছে। এদিকে, দিনের শুরুতে গতি ধীর থাকলেও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজার কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে, আর বন্ডের ইল্ড গত সপ্তাহের বৃদ্ধির পর সেই স্তর ধরে রেখেছে।
EURUSD ও GBPUSD-তে সামান্য দরপতন হয়েছে, আর USDJPY ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। এদিকে, সামান্য দরপতনের মাধ্যমে AUDUSD তার রিস্ক-ব্যারোমিটার হিসেবে পরিচিতি ধরে রেখেছে। অন্যদিকে, চীনের কারণে সৃষ্ট চাপের মধ্যে NZDUSD রয়েছে।
US Dollar-এর শক্তিশালী পারফরম্যান্স সত্ত্বেও Gold ও Crude Oil-এর দর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে, যা আগের সপ্তাহের গতিবিধিকে চ্যালেঞ্জ করছে।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে চিহ্নিত কয়েক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি স্থির রয়েছে BTCUSD ও ETHUSD। স্পট ETF নিয়ে আশাবাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিমি-লেনদেন ও অন-চেইন ডেটা দেখার পর ক্রিপ্টো ক্রেতারা আপাতত বিরতি নিচ্ছেন।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ছুটির কারণে সপ্তাহের শুরুটা নিরুত্তাপ থাকার পর, মঙ্গলবারের শুরুতে বাজারের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমে যায়। তবে, লোহিত সাগরকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের শেয়ার সূচকগুলোতে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রধান কারেন্সি পেয়ারগুলো পরিচিত ট্রেডিং রেঞ্জে ছিল, আর কমোডিটির দাম সামান্য বেড়েছে।
মঙ্গলবার, People’s Bank of China (PBoC) পাঁচ বছরের Loan Prime Rate (LPR)—যা দীর্ঘমেয়াদি মর্টগেজের বেঞ্চমার্ক হিসেবেও পরিচিত—4.20% থেকে কমিয়ে রেকর্ড 3.95% করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে PBoC এক বছরের LPR 3.45%-এ অপরিবর্তিত রেখেছে। এর ফলে চীনা ইউয়ান (CNY) দুর্বল হয়েছে এবং পণ্য ক্রেতারা উৎসাহিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, সুয়েজ খাল বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক বাণিজ্যপথ ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে আলোচনা করতে গ্রুপ অব সেভেন (G7) দেশগুলোর পরিবহনমন্ত্রীদের একটি দল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগ দেবেন। আলোচনায় লোহিত সাগরে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টিও থাকবে।
এ পর্যন্ত প্রকাশিত মার্কিন মূল্যস্ফীতির তথ্যও লক্ষ করার মতো। এই তথ্য ইঙ্গিত দিয়েছে, সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রাখা প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে 2024 সালের মার্চের পরিবর্তে জুনে ফেডের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বেড়েছে। এতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী থাকছে এবং পণ্যের ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। তবে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আশাবাদ সাম্প্রতিক পুনরুদ্ধারকে সমর্থন করছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড তুলনামূলকভাবে উঁচু রয়েছে। এর সঙ্গে Bank of Japan (BoJ) কর্মকর্তাদের নিকট ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করার বিষয়টি USDJPY-এর দর বাড়াচ্ছে। এভাবে ইয়েন পেয়ারটি গ্রিনব্যাকের বিপরীতে জাতীয় মুদ্রাকে রক্ষা করতে জাপানি কূটনীতিকদের মৌখিক হস্তক্ষেপও উপেক্ষা করছে।
মঙ্গলবারের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে কানাডার মূল্যস্ফীতির তথ্য ছাড়া তেমন কিছু নেই। তবে দীর্ঘ ছুটির পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ট্রেডাররা কাজে ফিরলে বাজারে সক্রিয় লেনদেন দেখা যেতে পারে। লোহিত সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে G7-এর সিদ্ধান্তের খবরও মোমেন্টাম ট্রেডারদের নজর কাড়তে পারে। এসব ঘটনার মধ্যে দিনের শুরুতে হওয়া পুনরুদ্ধার ধরে রেখে মার্কিন ডলারের দর আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, শেয়ার ও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মুদ্রার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের দর কিছুটা কমতে পারে। তবে বাজারের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করতে এ সপ্তাহের Fed Minutes এবং বৈশ্বিক PMI-ই হবে নজর রাখার মূল বিষয়।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!