
অস্থির সপ্তাহের শেষ দিকে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এর ফলে ত্রৈমাসিকের শেষের কনসোলিডেশনের মধ্যে US ডলারের বুলরা কিছুটা স্বস্তির সুযোগ পেয়েছেন। এতে কমোডিটি এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মুদ্রাগুলো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থেকেছে। অন্যদিকে, আশাব্যঞ্জক GDP তথ্য GBPUSD-এর দর বাড়ার বাড়তি কারণ জুগিয়েছে।
অন্যদিকে, ইল্ড শক্তিশালী থাকায় USDJPY দুর্বল USD থেকে সুবিধা নিতে পারছে না। সুইস খুচরা বিক্রয় কমে যাওয়ায় USDCHF-এর অবস্থাও একই রকম।
অন্যদিকে, জাপান, চীন ও যুক্তরাজ্যের প্রণোদনার প্রত্যাশায় ট্রেডাররা মার্কিন ডলারের তুলনায় কিছুটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এদিকে, সোনা ও অপরিশোধিত তেল সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে, শিল্পের জন্য ইতিবাচক খবর এবং USD দুর্বল হওয়ায় BTCUSD ও ETHUSD ধীরে ধীরে বাড়ছে।



প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:
এটি ঝুঁকি নেওয়ার বাজার নয়!
মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমায় ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদগুলোর সাম্প্রতিক লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। তবে মন্দার আশঙ্কা এবং আগ্রাসী সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় বাজারের মনোভাব এখনও নেতিবাচক। রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন নিয়ে সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং ইউক্রেনকে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য মস্কোর প্রস্তুতিও ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমাচ্ছে।
তবে জার্মানি, জাপান, চীন ও যুক্তরাজ্যের প্রণোদনা নিয়ে খবর সাম্প্রতিক সময়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও জাপানের ইতিবাচক তথ্যও মনোভাব উন্নত করেছে। উল্লেখ্য, চীনের মিশ্র PMI এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতাও বাজারের জন্য নেতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে।
সবচেয়ে বড় কথা, আসন্ন বৈশ্বিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কার পাশাপাশি সরবরাহ সংকটের ভয়ও ফেডের পছন্দের মূল্যস্ফীতি সূচক প্রকাশের আগে ট্রেডারদের সতর্ক রাখছে।
অন্যদিকে, OPEC+-এর উৎপাদন কমানোর প্রাথমিক ইঙ্গিত এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তেলের দামকে পুনরুদ্ধারের ধারায় থাকতে সহায়তা করছে। সোনার দামও দিনজুড়ে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল।
অন্যদিকে, NFT ক্রস-পোস্টিংয়ের খবর এবং ইউরোপে Blackrock-এর নতুন ETF চালুর ফলে BTCUSD ও ETHUSD সপ্তাহের হিসাবে স্থিতিশীল থাকতে পেরেছে।
সব নজর মূল্যস্ফীতির দিকে
ইউরোজোনের CPI ও HICP হোক বা মার্কিন Core PCE Price Index—আজকের মূল বিষয় মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান। সামনে সুদের হার বাড়তে পারে বলে মূল্যস্ফীতির জোরালো তথ্য সম্প্রতি তৈরি হওয়া ইতিবাচক মনোভাবকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এবং মার্কিন ডলারের ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে মাসের শেষ ও ত্রৈমাসিকের শেষে ডলারের চাহিদা না থাকলে এর পুনরুদ্ধারের গতি পরীক্ষা হতে পারে।