
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকা এবং বড় কোনো খবর না থাকায় বাজারে সামান্য আশাবাদ তৈরি হয়, যা মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বৃহস্পতিবারের শুরুতেও এই আশাবাদ বজায় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রি, শিল্প উৎপাদন, বেকারত্ব ভাতার দাবি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক তথ্যের অপেক্ষায় ছিলেন ট্রেডাররা। তবে এশিয়া-প্যাসিফিক ট্রেডিং সেশনে চীনের মিশ্র পরিসংখ্যান ডলারের দরপতনের পক্ষে থাকা ট্রেডারদের পরীক্ষা করেছে।
আসন্ন ভোক্তা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হতে চললেও US Dollar Index (DXY) টানা চতুর্থ সপ্তাহে পতনের পথে রয়েছে। US Treasury বন্ডের ইল্ড সাম্প্রতিক বৃদ্ধি থেকে আবার কমেছে, ফলে ডলারের ওপর চাপ বজায় রয়েছে। এতে শেয়ারবাজার ও সোনার দাম লাভবান হচ্ছে।
EURUSD বাড়ছে এবং জুলাইয়ের শুরুর পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উত্থানের পথে রয়েছে। মিশ্র যুক্তরাজ্য-সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যেও GBPUSD-এর টানা চার সপ্তাহের পতন থেমেছে। USDJPY ও USDCHF মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও গত সপ্তাহের উত্থান ধরে রেখেছে।
তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কিছুটা নেমে আসার পরও AUDUSD সাপ্তাহিক উত্থান ধরে রেখেছে। একইভাবে, নিউজিল্যান্ডের রিজার্ভ ব্যাংকের (RBNZ) অপ্রত্যাশিত সুদের হার কমানোর পর এক দিনে উল্লেখযোগ্য পতন সত্ত্বেও NZDUSD টানা তৃতীয় সপ্তাহে বাড়ার পথে রয়েছে।
USDCAD মাসিক সর্বনিম্নের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং টানা দ্বিতীয় সপ্তাহেও দরপতন হতে পারে। এদিকে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা তৃতীয় দিনের মতো কমছে।
গত সপ্তাহের দরপতন কাটিয়ে সোনার দাম ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দুর্বল মার্কিন ডলার এবং বাজারের মিশ্র মনোভাবের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত সম্পদের চাহিদা বাড়ায়, তিন দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো দৈনিক দরবৃদ্ধি হয়েছে।
দুর্বল মার্কিন ডলারের পরও BTCUSD এবং ETHUSD দিনের মধ্যে দরপতনের মুখে পড়েছে। Ethereum-এর তথ্য নেতিবাচক প্রবণতা দেখাচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন সরকারের Silk Road-সংশ্লিষ্ট 591 মিলিয়ন ডলারের BTC স্থানান্তরের কারণে Bitcoin চাপে রয়েছে। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় Bitcoin ওয়ালেটগুলোতে বাড়তি কার্যকলাপও BTCUSD-এর ওপর নিম্নমুখী চাপ বাড়াচ্ছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



মার্কিন ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) প্রত্যাশার চেয়ে সামান্য কম এসেছে। এতে সেপ্টেম্বরে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর আশা জোরালো হয়েছে। নরম মুদ্রানীতির এই মনোভাব এবং ঝুঁকি-বিমুখতা বাড়াতে পারে এমন নেতিবাচক খবরের অভাব—দুইয়ের ফলে মার্কিন ডলারের দর দুর্বল হয়েছে। CPI-এর তথ্য এবং ফেডের সুদের হার কমানো নিয়ে চলমান জল্পনা—দুটির কারণেই USD-এর ওপর চাপ রয়েছে।
মার্কিন ডলারের দর দুর্বল হওয়ায় EURUSD পেয়ারটি 2024 সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে, যদিও ইউরোজোনের শিল্প উৎপাদনের তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ ছিল। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইউরোজোনের GDP ও কর্মসংস্থানের পরিবর্তন পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলেছে, বড় কোনো চমক দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের দুর্বল মূল্যস্ফীতির তথ্যের কারণে GBPUSD দুর্বল USD থেকে সুবিধা নিতে পারেনি। তবে বৃহস্পতিবার শিল্প ও উৎপাদন খাতের ইতিবাচক উৎপাদন-সংক্রান্ত তথ্য GBPUSD-কে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সাপ্তাহিক লাভের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
USDJPY সাত মাসের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ধারা ধরে রেখেছে। জাপানের সম্ভাব্য বাজার হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ এবং ব্যাংক অব জাপান আর সুদের হার না-ও বাড়াতে পারে—এমন জল্পনা এতে সহায়তা করেছে। বাজারের মনোভাব উন্নত হওয়ায় USDCHF-ও সামান্য বেড়েছে।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতা, চীনের ইতিবাচক তথ্য এবং অনুকূল ঝুঁকি-পরিস্থিতির কারণে AUDUSD ও NZDUSD-তে সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের আংশিক প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ান ডলার, নিউজিল্যান্ড ডলারের চেয়ে বেশি বেড়েছে।
এদিকে, টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে USDCAD-এর দর কমতে পারে, যদিও অপরিশোধিত তেলের দাম টানা তিন দিন ধরে কমেছে। তেলের দামের এই পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহকে প্রভাবিত করে এমন বড় কোনো খবর না থাকাও কারণ হতে পারে।
গত সপ্তাহে কমে যাওয়ার পর সোনার দাম আবার শক্তি ফিরে পেয়েছে। এর পেছনে রয়েছে বাজারের অনিশ্চয়তা, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড কমে যাওয়া।
সামনে বাজারের সতর্ক আশাবাদ মার্কিন ডলারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে, আসন্ন মার্কিন তথ্য এই প্রবণতাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। নজরে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের মধ্যে রয়েছে জুলাইয়ের খুচরা বিক্রি, শিল্প উৎপাদন এবং সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার দাবি। এ ছাড়া, নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়ার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের উৎপাদন খাতের জরিপও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির দুর্বল তথ্য এবং সেপ্টেম্বরে সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়া ফেডের সংকেত সত্ত্বেও, মার্কিন ডলারের বিক্রেতারাই নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারেন। তাদের নজর এখন 2024 সালে সম্ভাব্য সুদের হার কমানোর দিকে থাকবে। এই হার কমানো নিশ্চিত হলে মার্কিন ডলার আরও দুর্বল হতে পারে এবং সোনা, EURUSD ও অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অন্যান্য মুদ্রার দাম বাড়তে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!