
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে হেজ হিসেবে বিটকয়েন আরও নির্ভরযোগ্য হতে পারে। ইতিহাসও তা-ই দেখায়।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রিপ্টোকারেন্সি BTC-এর দখলে পুরো ক্রিপ্টো বাজারের মোট মূলধনের 50%। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই টোকেনটি স্বর্ণের ডিজিটাল প্রতিরূপ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে এগিয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের কথা বিবেচনায় নিলে, BTC-কে আরও নমনীয় অ্যাসেট বলে মনে হয়। দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল হয়ে পড়া অর্থনীতির বিরুদ্ধে হেজ হিসেবে এটি BTC-কে আরও কার্যকর করে তোলে।
বিভিন্ন কারণে BTC সোনার চেয়ে ভালো। এর প্রধান কারণ হলো প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, যা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছে। সহজভাবে বললে, বিশ্ব ক্রমেই ডিজিটাল পরিবেশে পরিণত হচ্ছে, যেখানে অর্থের সঙ্গে গ্লোবাল ওয়েবের সংযোগ সহজ।



এদিকে, BTC ও হলুদ ধাতু হিসেবে পরিচিত সোনার মধ্যে জোরালো সম্পর্ক উপেক্ষা করা উচিত নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সক্রিয়ভাবে সোনা কিনছে (শুধু আগস্টেই 77 টন)। সোনার মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক আর্থিক সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় বা মূলত মূল্য সংরক্ষণের কাজে লাগে। বর্তমানে পুরো সোনার বাজারের মূল্য $5 ট্রিলিয়ন।
বিটকয়েনের বাজারমূল্য 540 বিলিয়ন ডলার, যা ভৌত ও আর্থিক—দুই ধরনের সোনার বাজারমূল্যের মোট পরিমাণের প্রায় 10%। যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত BTC ETF অনুমোদিত হলে অতিরিক্ত 25 বিলিয়ন ডলারের উল্লেখযোগ্য টোকেন প্রবাহ তৈরি হতে পারে, যার ফলে ক্রিপ্টোর দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন হতে পারে।
এ ছাড়া, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সহজে মূল্য স্থানান্তর করা যায়। সহজ কথায়, ট্রেডের পরিমাণ যাই হোক না কেন, ব্যবহারকারীরা সহজেই সীমান্ত পেরিয়ে অ্যাসেট স্থানান্তর করতে পারেন। এর পাশাপাশি, প্রযুক্তির বর্তমান উন্নয়নের গতিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
সব বড় শিল্পখাতেই ডিজিটালাইজেশন দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ভবিষ্যতে এই উন্নয়নগুলো বাস্তবায়িত হলে, BTC শুধু বড় একটি speculative asset-ই হবে না, হলুদ ধাতু Gold-এর মতো মূল্য সংরক্ষণের মাধ্যমও হয়ে উঠতে পারে।
ঐতিহাসিক তথ্যের দিকে তাকালে, আমরা আগেই বলেছি যে 2019 সালে FED সুদের হার বাড়ানোর চক্র শেষ করে বিরতি দেওয়ার পর BTC ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। এ ক্ষেত্রে সুদের হার এবং উল্টে যাওয়া ইল্ড কার্ভ—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নজর রাখা দরকার। দ্বিতীয়টি আসন্ন মন্দার ইঙ্গিত দেয়।
এখনকার পরিস্থিতিতে 2019 সালের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, কারণ গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিষয়গুলো একই দিকে এগোচ্ছে। তাই BTC-এর দাম শিগগিরই আবার বাড়তে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!