
সাম্প্রতিক শক্তিশালী মার্কিন তথ্য প্রকাশের পর ট্রেডাররা ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নতুন করে মূল্যায়ন করায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিয়ারিশ প্রবণতার পক্ষে গেছে। চীনে কোভিড নিয়ে উদ্বেগ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের আগে আরও কঠিন সময় আসতে পারে—নীতিনির্ধারকদের এমন মন্তব্যও ঝুঁকি এড়ানোর মনোভাব বাড়িয়েছে।
এর ফলে, ঝুঁকির প্রবণতা নির্দেশক কারেন্সি পেয়ার AUDUSD নিম্নমুখী হয়েছে, যদিও অক্টোবরের অস্ট্রেলিয়ার কর্মসংস্থান তথ্য ইতিবাচক ছিল। প্রধান কারেন্সি পেয়ার EURUSD-ও চাপে ছিল। এদিকে, চীন ব্যাংকগুলোকে তারল্য পরিস্থিতি জানাতে বলায় গুরুত্বপূর্ণ পেয়ারগুলোর মধ্যে USDCNY সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি, ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড পুনরুদ্ধার করায় মার্কিন ডলারের সাপ্তাহিক ক্ষতি কিছুটা কমেছে। তবে, ব্যাংক অব জাপানের (BOJ) কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য USDJPY-এর বুলদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
সোনার দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে। অন্যদিকে, ব্রেন্ট তেলের দাম চাপে রয়েছে এবং এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের পথে রয়েছে।
অন্যদিকে, FTX ধসের পর বড় এক্সচেঞ্জগুলোতে এর প্রভাব দেখা দেওয়ায় BTCUSD এবং ETHUSD-এর দামও নিম্নমুখী রয়েছে।



প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:
ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বজায় রয়েছে
উৎসাহব্যঞ্জক Producer Price Index (PPI)-এর পর মার্কিন খুচরা বিক্রির শক্তিশালী তথ্য ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ডোভিশ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এর ফলে ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড এবং মার্কিন ডলার পুনরুদ্ধারের সুযোগ পেয়েছে।
চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং দেশটির বন্ডবাজারে ধসের পর ব্যাংকগুলোকে তারল্য পরিস্থিতি জানাতে বলায় বাজারের হতাশাবাদও বেড়েছে।
অক্টোবরের অস্ট্রেলিয়ার কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্য RBA নীতিনির্ধারকদের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ওই মন্তব্যে সুদের হার তুলনামূলক কম বাড়ানোর ইঙ্গিত ছিল, তবে এতে AUDUSD-এর কোনো সহায়তা হয়নি। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সংকট কেটে গেলে সহজ মুদ্রানীতি সীমিত করার প্রস্তুতির ইঙ্গিত BOJ কর্মকর্তারা দেওয়ায় USDJPY স্থিতিশীল ছিল।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান এক্সচেঞ্জটির ব্লকচেইন পরিকল্পনা বাতিল এবং Gemini থেকে বিপুল অর্থ উত্তোলন প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে।
ঝুঁকির অনুঘটকগুলোই মূল বিষয়
যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব পরিকল্পনা ঘোষণাটি ছাড়া বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ঘটনা ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। তাই নিকটমেয়াদি বাজারের গতিপথ নির্ধারণে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা সম্ভবত ঝুঁকির প্রবাহের দিকে নজর দেবেন। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি-সংক্রান্ত খবরগুলো অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক কর্মসংস্থানের তথ্য এবং মাসিক কার্যকলাপের তথ্য ট্রেডারদের জন্য অতিরিক্ত দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!