
বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপের পর উচ্চ সুদের হার অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা নতুন করে জাগিয়ে তুললে বাজারের মনোভাব নেতিবাচক হয়ে ওঠে। ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতার সঙ্গে RBA-র সুদের হার বাড়ানোর সীমিত সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ যুক্ত হয়। অন্যদিকে, জুলাইয়ে Fed-এর সুদের হার বাড়ানোর জল্পনা AUDUSD-কে আরও চাপে ফেলে।
তবে, দুর্বল বাজার-মনোভাব এবং Fed চেয়ার Powell-এর হকিশ সাক্ষ্যে সুবিধা পেয়ে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক বৃদ্ধি পেয়েছে US Dollar। শক্তিশালী USD পণ্য এবং অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ড ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও, $1,910-এর কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্টে সোনার দাম স্পষ্ট দিকনির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছে না।
মার্কিন ডলারের শক্তি এবং যুক্তরাজ্যে মন্দার আশঙ্কার কারণে GBPUSD-তে যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রির ইতিবাচক তথ্যের প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, জার্মানির PMI-র দুর্বল ফলাফল থেকে EURUSD-এর দরপতনের পক্ষে থাকা ট্রেডাররা ইঙ্গিত পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, চীনের বাজার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। মন্দার আশঙ্কার মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাকি বাজারগুলোতেও কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।
ক্রিপ্টো নিয়ে বলতে গেলে, শিল্পখাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে SEC-এর কঠোর পদক্ষেপ BTCUSD ও ETHUSD-কে মাসিক সর্বোচ্চ স্তর থেকে নামিয়ে এনেছে। তবে আরও বিনিয়োগের আশায় সম্প্রতি দরপতনের পর বাজারে পুনরুদ্ধার হয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



CBRT, BoE এবং নরওয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কড়া অবস্থানের চমকই হোক, কিংবা সুদের হার বাড়ানোর জন্য Fed চেয়ার জেরোম পাওয়েলের প্রস্তুতি—SNB-এর স্বাভাবিক হারে সুদ বৃদ্ধি ভুলে গেলে চলবে না—আগের দিন অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকই “দীর্ঘ সময়ের জন্য উচ্চ সুদের হার” বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। বর্তমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং চীন ও রাশিয়াকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে এসব বক্তব্য মিলে মন্দার আশঙ্কা নতুন করে জাগিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডলারকে শক্তিশালী করেছে।
এর ফলে AUDUSD, ইকুইটি, গোল্ড ও ক্রুড অয়েলের মতো তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলো চাপের মধ্যে রয়েছে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে গোল্ডের দাম দুর্বল ছিল। অন্যদিকে, জুনের শুরুতে BoC-এর অপ্রত্যাশিত সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনও CAD-কে সমর্থন করছে, তাই USDCAD-এ আপাতত দ্বিধা দেখা যাচ্ছে।
তবে, মার্কেটের ঝুঁকি এড়ানোর মনোভাব মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখতে আজকের PMI দিয়ে নিশ্চিত হওয়া দরকার। তা না হলে, বন্ডের দামে বড় উল্লম্ফন এবং সোনার দর ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রির ইতিবাচক তথ্য এবং জার্মানির দুর্বল PMI প্রকাশিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মিশ্র কার্যকলাপের পরিসংখ্যানও এসেছে। এখন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা স্পষ্ট দিকনির্দেশনার জন্য যুক্তরাজ্য, ইউরোজোন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক PMI-এর অপেক্ষায় রয়েছেন। উল্লেখ্য, আজকের বাকি সময়ে ট্রেডারদের উচ্চ ভোলাটিলিটির জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের PMI হতাশাজনক না হলে এই ভোলাটিলিটি মার্কিন ডলারকে আরও শক্তিশালী রাখতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!