
এটিকে Jackson Hole-পরবর্তী বাজারের স্থিতি বলুন বা চীনকে ঘিরে আশাবাদ—সপ্তাহের শুরুতে বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ইতিবাচক। এর সঙ্গে US Treasury বন্ডের দুর্বল ইল্ডও US ডলারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা এবং দুর্বল মার্কিন ডলারের পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ার খুচরা বিক্রির ইতিবাচক পরিসংখ্যান AUDUSD-কে শক্তিশালী করেছে। ফলে G10 মুদ্রাগুলোর মধ্যে গ্রিনব্যাকের বিপরীতে এটিই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে, NZDUSD-ও শক্ত অবস্থানে রয়েছে, আর EURUSD ও GBPUSD সামান্য বেড়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি USDJPY ও USDCAD-এর কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। এদিকে, দিনের শুরুতে ইতিবাচক থাকার পর পণ্যবাজারে দুর্বলতা দেখা দিয়েছে।
এর ফলে, আগের পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবার সাপ্তাহিক লাভের পরও স্বর্ণের দাম সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, অন্যদিকে অপরিশোধিত তেল টানা তিন দিন লাভ করেছে। একই সময়ে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজার, বিশেষ করে চীনের ইকুইটিগুলো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। পশ্চিমা বাজারের ফিউচারেও সম্প্রতি সামান্য লাভ দেখা গেছে।
অন্যদিকে, মাসের শেষের পজিশনিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর কঠোর নিয়মকানুনের আশঙ্কার মধ্যে BTCUSD ও ETHUSD-এর দর নিম্নমুখী রয়েছে।
প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ দর ওঠানামা নিচে দেওয়া হলো:



জ্যাকসন হোলে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাদের হকিশ নীতির পক্ষে অবস্থান নিলেও আরও সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে স্পষ্ট সমর্থন জানাননি। এতে ট্রেডাররা সুদের হার বাড়ানো বন্ধ হওয়ার প্রত্যাশা করতে শুরু করেন এবং বাজারের মনোভাবও ইতিবাচক হয়। চীনের অতিরিক্ত প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ এবং দিনের শুরুর দিকে প্রকাশিত জুলাইয়ের অস্ট্রেলিয়ার খুচরা বিক্রির ইতিবাচক তথ্যও বাজারের মনোভাবে সহায়তা করেছে।
তবে লক্ষণীয়, এই সপ্তাহের মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, ফেডের পছন্দের মূল্যস্ফীতির সূচক এবং চীনের PMI প্রকাশের আগে সতর্ক মনোভাব সাম্প্রতিক আশাবাদীদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। যুক্তরাজ্যের সামার ব্যাংক হলিডের কথাও মাথায় রাখা জরুরি। মিশ্র মনোভাবের মধ্যে এর ফলে বাজারের ওঠানামা সীমিত হতে পারে।
অন্যদিকে, Bitcoin ETF চালু হতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা এবং মার্কিন SEC-এর সঙ্গে ক্রিপ্টো শিল্পের বিরোধ BTCUSD ও ETHUSD-এর ওপর নিম্নমুখী চাপ বাড়াচ্ছে।
অস্থির একটি সপ্তাহের পর, ইউরোপীয় ও মার্কিন সেশনে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা/ইভেন্টের অভাবে সোমবার ট্রেডারদের জন্য তুলনামূলক শান্ত হতে পারে। তা সত্ত্বেও, মাঝারি গুরুত্বের কার্যকলাপ-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের বক্তব্য মোমেন্টাম ট্রেডারদের যুক্তরাষ্ট্রের NFP ও Core PCE Price Index ডেটার আগে আগের মুভের কিছুটা প্রভাব কমাতে পারে। এ ছাড়া, ইউরোজোনের মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান এবং একাধিক অর্থনীতির GDP রিডিং আগামী দিনগুলোতে বাজারের মুভমেন্টকে প্রভাবিত করবে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!