লগ আউট
Are you sure you want to exist?

শেয়ারবাজারের মার্কেট টাইমিং কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

মার্কেট টাইমিং একটি নমনীয় কৌশল, যা দীর্ঘমেয়াদি বা স্বল্পমেয়াদি—উভয় ধরনের বিনিয়োগেই প্রয়োগ করা যায়। বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি এর মাধ্যমে বিয়ারিশ বা বুলিশ—দুই ধরনেরই হতে পারে। মূল ধারণাটি হলো, একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ দাম সম্পর্কে অনুমান করা। ট্রেডাররা মূলত দাম কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে নিজেদের ধারণার ওপর নির্ভর করেন।

None

এই নিবন্ধে শেয়ারবাজারের মার্কেট টাইমিং কৌশল এবং সেগুলোর সম্ভাব্য সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে আরও জানবেন।

শেয়ারবাজারের মার্কেট টাইমিংয়ের সংজ্ঞা

তাহলে, মার্কেট টাইমিং কী? সহজভাবে বললে, এটি এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে কেউ নিজে অনুমান করেন দাম পরবর্তী সময়ে কোন দিকে যাবে। অনুমান করার সময় ট্রেডাররা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বিবেচনা করেন এবং দাম অনুমিত স্তরের নিচে বা ওপরে যেতে পারে বলে ধরে নেন।

অন্যভাবে বললে, এই কৌশলটি নির্ভর করে বিভিন্ন ট্রেডারের ব্যক্তিগত ধারণা, অনুমান ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মনোভাবের ওপর। এসব ধারণা ও অনুমানের পক্ষে অতীতের দামের তথ্য বা বিভিন্ন ধরনের প্রাইস চার্ট প্যাটার্ন থাকতে পারে। এই কৌশলের প্রধান সুবিধা হলো, এটি প্রায় যেকোনো সিকিউরিটিতে প্রয়োগ করা যায়। একই সঙ্গে, শেয়ারবাজারের মার্কেট টাইমিং সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলোর একটি; তবে কেউ কেউ বন্ড, মূল্যবান ধাতু বা রিয়েল এস্টেটকেও বিনিয়োগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

মার্কেট টাইমিং কৌশল কি ঝুঁকিপূর্ণ?

মার্কেট টাইমিং কৌশলকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। একদিকে, সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে এই কৌশল থেকে বড় অঙ্কের লাভ হতে পারে। তবে এই কৌশল ব্যবহার করে একই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করা খুব কঠিন। অন্যভাবে বললে, ধারাবাহিকভাবে সম্পদ গড়ে তোলা ও বাড়ানোর জন্য এটি উপযুক্ত পদ্ধতি নাও হতে পারে।

মার্কেট টাইমিং কীভাবে কাজ করে?

আপনার অনুমানের ওপর নির্ভর করে এই পদ্ধতি বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। আগেই বলা হয়েছে, এই ধারণা দীর্ঘমেয়াদি বা স্বল্পমেয়াদি—উভয় ধরনের বিনিয়োগে প্রয়োগ করা যায়। এ ছাড়া, আপনার পূর্বাভাস ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে বাজারের দৃষ্টিভঙ্গি বিয়ারিশ বা বুলিশ—দুই ধরনেরই হতে পারে।

মার্কেট টাইমিং কৌশলের ধরন

উদাহরণ হিসেবে, ধরুন আপনি এমন একটি শেয়ার বেছে নিলেন, যার বর্তমান দাম $50। আপনার মনে হচ্ছে, সপ্তাহের শেষে দাম কমে $48 হবে। তাই আপনি সম্ভবত শেয়ারটি শর্ট করতে চাইবেন অথবা শুক্রবার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এমন পুট অপশন নিতে চাইবেন। আপনি যেটিই বেছে নিন, দাম কমবে—এমন প্রত্যাশায় আপনি বিয়ারিশ পজিশন নেবেন এবং শেয়ারটি শর্ট করে লাভ করার চেষ্টা করবেন। তবে আপনার পূর্বাভাস ভুল হলে এবং দাম বেড়ে গেলে, আপনার লোকসান হবে।

অন্যদিকে, বুলিশ মার্কেট টাইমিং কৌশলে দাম বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। অন্য কথায়, আপনি সম্ভবত লং পজিশন নেবেন অথবা শেয়ারের দাম বাড়বে বলে প্রত্যাশিত দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এমন অপশন নেবেন। বাজারের এই মনোভাব থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে চাইলে, মার্জিন ঋণ ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এতে আপনার বিনিয়োগ করা অর্থের চেয়ে বেশি লোকসান হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

মার্কেট টাইমিং কৌশল ব্যবহারের আরেকটি উপায় হলো, বাজার ধসে পড়তে চলেছে—এমন আশঙ্কা হলে শেয়ার শর্ট করা। কেউ যখন অ্যাসেট বাবল তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করেন, তখন এই কৌশলটি কাজে আসে। এর একমাত্র অসুবিধা হলো, বাজার ধসের সঠিক তারিখ নির্ধারণ করা খুব কঠিন। ফলে বড় লাভ করার সম্ভাবনা কম থাকে। তবে তা করতে পারলে, অনেক কম দামে শেয়ারগুলো আবার কিনে নেওয়া সম্ভব।

সিস্টেম্যাটিক পদ্ধতি মার্কেট টাইমিংয়ের ঠিক বিপরীত। দামের ওঠানামা অনুমান করার বদলে, ট্রেডাররা নির্দিষ্ট সূত্রভিত্তিক টুল ব্যবহার করেন এবং সাধারণত অ্যাসেটের দাম উপেক্ষা করেন। শেয়ারের দাম যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, নিয়মিতভাবে একই পরিমাণ অ্যাসেট কেনাই এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য।

সারসংক্ষেপ

মার্কেট টাইমিং কৌশল থেকে লাভ হতে পারে, তবে এতে ঝুঁকিও রয়েছে। এর প্রধান অসুবিধা হলো, ট্রেডাররা ব্যক্তিগত অনুমানের ওপর নির্ভর করতে পারেন; ঐতিহাসিক তথ্য ও নির্দিষ্ট চার্ট প্যাটার্ন দিয়ে পূর্বাভাসের পক্ষে প্রমাণ দেখানোর উপায়ও খুব বেশি নেই। তবে আপনি যদি সঠিক সময় ও দামের গতিবিধি চিহ্নিত করতে খুব দক্ষ হন, তাহলে এই পদ্ধতি অবশ্যই কার্যকর হবে। তা না হলে, অন্য কোনো ট্রেডিং পদ্ধতি চেষ্টা করে দেখা ভালো।

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।