সঠিক পজিশন সাইজ নির্ধারণ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? ট্রেডারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটিতে—শান্ত ও যুক্তিসংগত থাকা—এটি একটি অপরিহার্য ধাপ। ট্রেডিংয়ে বড় ধরনের ক্ষতি ও হতাশা এড়াতে পারে এমন একমাত্র পদ্ধতিটি সহজ সূত্রের ওপর নির্ভর করে।

পরের লেখাটিতে নতুন ট্রেডারদের জন্য ফরেক্সে পজিশনের সাইজ নির্ধারণের ধাপে ধাপে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় যাওয়ার আগে, ফরেক্স ট্রেডিংয়ে পজিশনের সাইজ নির্ধারণ বলতে ঠিক কী বোঝায়, তা সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক।
সহজভাবে বললে, পজিশনের সাইজ হলো বিনিয়োগ বা ট্রেডিং পোর্টফোলিওতে থাকা কোনো পজিশনের আকার। এটি একজন ট্রেডার বা বিনিয়োগকারী যে পরিমাণ ডলার দিয়ে ট্রেড করতে যাচ্ছেন, সেটিকেও বোঝাতে পারে। ট্রেডার কত ইউনিট সিকিউরিটিজ কিনতে পারেন, তা নির্ধারণে পজিশনের সাইজ ব্যবহার করা হয়। এর ফলে ট্রেডার তার ট্রেডের ঝুঁকির ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন এবং অবশ্যই, বেশি মুনাফা করার সম্ভাবনাও বাড়াতে পারেন।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে সঠিকভাবে পজিশনের সাইজ নির্ধারণ করতে পারলে ট্রেডার তার ট্রেডে একটি নির্দিষ্ট ঝুঁকির মাত্রা বজায় রাখতে পারেন। আপনার ট্রেডিং পজিশনের সাইজ কীভাবে নির্ধারণ করতে হয়, তা পুরোপুরি না বুঝলে ধারাবাহিকভাবে ট্রেড করা প্রায় অসম্ভব। ফলে ধারাবাহিক মুনাফা করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
ট্রেডিংয়ের সময় কীভাবে সঠিকভাবে পজিশনের সাইজ নির্ধারণ করবেন, তার ধাপে ধাপে নির্দেশিকা এখানে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করুন এবং ডেমো অ্যাকাউন্টে অনুশীলন করুন, যেখানে বাস্তব অর্থের ঝুঁকি নেই!



অনেক ট্রেডার শেষ পর্যায়ে স্টপ লস সেট করার ভুল করেন, যদিও শুরুতেই এটি করা অনেক বেশি যুক্তিসংগত। তাই ট্রেডে প্রবেশের আগে ট্রেডারের জানা উচিত, তিনি কোথায় স্টপ লস সেট করবেন।
এটি করার পর স্টপ লসের স্তর ও এন্ট্রি প্রাইসের স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব মাপা এবং নির্ধারণ করা সম্ভব। বড় ধরনের ক্ষতি থেকে সুরক্ষার জন্যই স্টপ লস ব্যবহার করা হয়। তাই পজিশনের সাইজ আরও ভালো করার জন্য এই স্তর পরিবর্তন করবেন না।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে স্টপ লসের দূরত্ব সাধারণত পিপে মাপা হয়, যেখানে 1 পিপ = প্রতি ইউনিটে 1 প্রাইস। উদাহরণ হিসেবে EUR/USD কারেন্সি পেয়ারটি ধরুন: দাম 1.8000 থেকে 1.8001-এ গেলে, সেটি 1 পিপের সমান হবে।
এটি বেশ সহজ একটি ধাপ—আপনি আপনার ট্রেডে কতটা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত? অথবা বলা যায়, লাভজনক ট্রেডের আশায় আপনি কতটা হারাতে প্রস্তুত? ট্রেডাররা সাধারণত যে ট্রেডকে লাভজনক মনে করেন, তাতে তাদের ট্রেডিং অ্যাকাউন্টের একটি নির্দিষ্ট অংশ ঝুঁকিতে রাখেন।
এলোমেলো লট সাইজ নেওয়া এবং নির্দিষ্ট ঝুঁকির মাত্রায় পৌঁছাতে পরে স্টপ লস সমন্বয় করা ঠিক নয়—অর্থাৎ, যেখানে ঝুঁকি ও রিওয়ার্ড বেশি হতে পারে। আপনি যে চার্ট নিয়ে কাজ করছেন, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুক্তিসংগত প্রাইস লেভেলে স্টপ লস সেট করা উচিত।
এ ছাড়া, ট্রেডিংয়ের ঝুঁকি সাধারণত ট্রেডিং সেটআপের মানের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ, কোনো ‘মজবুত’ সেটআপে বেশি ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে, কম মানের সেটআপে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নেওয়াই যুক্তিসংগত।
এটিকে ‘ভ্যারিয়েবল পজিশন সাইজিং’ও বলা হয়। পেশাদার ট্রেডাররা নিয়মিত এটি ব্যবহার করেন। সম্ভাব্যতার ওপর নির্ভর করে—এমন অন্যান্য কাজেও এটি ব্যবহৃত হয়।
আপনি যত লট নিয়ে ট্রেড করবেন, তার সংখ্যার ওপর পজিশনের সাইজ নির্ভর করে। লট 3 ধরনের: মাইক্রো লট, স্ট্যান্ডার্ড লট এবং মিনি লট।
আপনি যে সাইজের লট নিয়ে ট্রেড করছেন, তার ওপর পিপের মান বদলে যায়। বিষয়টি বোঝার জন্য কয়েকটি উদাহরণ দেখুন:
ফরেক্সে লটের সাইজ ও পিপের মান বুঝতে এই ছোট চার্টটি সাহায্য করবে।

10টি মিনি লট 1টি স্ট্যান্ডার্ড লটের সমান, আর 10টি মাইক্রো লট 1টি মিনি লটের সমান। আপনি যে ধরনের কারেন্সি পেয়ারে ট্রেড করছেন, তার ওপর পিপের মান নির্ভর করে। ট্রেড শুরু করার আগে বিভিন্ন কারেন্সি পেয়ারের পিপের মান দেখে নেওয়া জরুরি।
শেষ ধাপে, এই সব তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করে নির্দিষ্ট ঝুঁকির পরিমাণ অনুযায়ী কত লট কিনতে (বিক্রি করতে) হবে, তা হিসাব করতে হবে।
ফরেক্সে পজিশনের সাইজ নির্ধারণের সূত্র সাধারণত এমন হয়:
প্রতি ট্রেডের ঝুঁকি / স্টপ লসে পিপের সংখ্যা = মিনি লট
ধরা যাক, আপনার কাছে $2,000 USD আছে এবং প্রতি ট্রেডে ঝুঁকি 2%। সে ক্ষেত্রে ঝুঁকির পরিমাণ হবে $40, আর স্টপ লসের দূরত্ব হবে 50 পিপ।
হিসাবটি হবে: $40 / 50 = 0.8। অর্থাৎ, আপনাকে 0.8 মিনি লট (বা 8 মাইক্রো লট) কিনতে হবে।
এ ছাড়া, পজিশনের সাইজ নির্ধারণে আরও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আপনি নিজের ফরেক্স পজিশন সাইজিং স্প্রেডশিট বা ‘চিট শিট’ তৈরি করতে পারেন। এতে পজিশনের সাইজের বিভিন্ন বিকল্প এক জায়গায় পাওয়া যাবে, ফলে সময় বাঁচবে। নতুন সম্ভাব্য বিকল্প যোগ করতে আপনি এটি নিয়মিত আপডেটও করতে পারবেন।
প্রবন্ধের শুরুতে আমরা সংক্ষেপে এ বিষয়ে বলেছিলাম। আরেকটু ব্যাখ্যা করলে, ট্রেডের পজিশনের সাইজ একই রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে আপনি ট্রেডিংয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন। পাশাপাশি, বাজারের উচ্চ অস্থিরতা এড়িয়ে ধীরে ধীরে আপনার ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট বাড়াতেও এটি সাহায্য করে।
পজিশনের সাইজে ধারাবাহিকতা না থাকলে এমন ভুল হতে পারে—যেমন, এমন কিছু ট্রেডে অতিরিক্ত মূলধন ব্যবহার করা, যেগুলো হয়তো নেওয়াই উচিত নয়। কোনো ট্রেডে কত লট কেনা বা বিক্রি করা উচিত, তা বুঝতে কিছুটা অনুশীলন লাগবে। তবে সঠিকভাবে স্টপ লস সেট করে এবং পজিশনের সাইজে ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে ধীরে ধীরে আপনি বিষয়টি আয়ত্ত করতে পারবেন।
ট্রেডের যে বিষয়টির ওপর আপনার 100% নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা হলো পজিশনের সাইজ। তাই এটি সঠিকভাবে কীভাবে নির্ধারণ করতে হয়, তা বুঝতে সময় দেওয়াই যুক্তিযুক্ত—এতে আপনি এর কার্যকারিতা সর্বোচ্চ করতে পারবেন।
নিয়মিত ব্যবহৃত পজিশনের সাইজ নির্ধারণের কয়েকটি কৌশলের উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
তবে এই কৌশলের একটি অসুবিধা হলো, অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স পরিবর্তিত হলেও ট্রেডার লিভারেজ একই রাখতে পারেন না। এর ফলে অনেক বড় লোকসান হতে পারে। ট্রেডার ধারাবাহিকভাবে লোকসান করতে থাকলে সমস্যাটি আরও বাড়তে পারে।
এখন মনে হচ্ছে, আমাদের ফ্রি ডেমো অ্যাকাউন্টে টেস্ট অর্ডার দেওয়ার জন্য আপনি পুরোপুরি প্রস্তুত! অ্যাকাউন্ট খুললেই কোনো ঝুঁকি ছাড়াই বাস্তব বাজার পরিস্থিতিতে একটি আসল ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে ট্রেডিং করার সুযোগ পাবেন। বিভিন্ন কৌশল পরীক্ষা করার জন্য আমরা আপনার ডেমো অ্যাকাউন্টে পরীক্ষামূলকভাবে 5000 USD দিচ্ছি। এ ছাড়া, আপনার যেকোনো প্রশ্নে আমাদের ব্যক্তিগত ম্যানেজাররা সাহায্য করতে প্রস্তুত।
আপনি এখনও নতুন হলে, এ সময় অন্য কিছু পড়ে দেখতে পারেন। এখনই ফরেক্সের 5টি মৌলিক টুল সম্পর্কে জেনে নেবেন না?
আপনার ট্রেডিংয়ের জন্য শুভকামনা। আমাদের সঙ্গে আপনাকে ট্রেড করতে দেখার অপেক্ষায় রইলাম।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।