লগ আউট
Are you sure you want to exist?

মুদ্রাস্ফীতি ও শেয়ারবাজারের মধ্যে সম্পর্ক কী?

মূল্যস্ফীতি ও শেয়ারবাজারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মূল্যস্ফীতি বলতে সাধারণ মানুষের জন্য উপলভ্য পণ্য ও পরিষেবার দাম বেড়ে যাওয়াকে বোঝায়। এর ফলে মুদ্রার এককের ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতির সময় শেয়ারবাজারে কী পরিবর্তন ঘটে, সেটিও এর অন্তর্ভুক্ত। এ সময় উৎপাদন উপকরণের দাম বাড়ে, বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায় এবং আরও নানা বিষয় শেয়ারের দামে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে।

None

এই নিবন্ধে মূল্যস্ফীতি ও শেয়ারের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হবে। কয়েকটি উদাহরণসহ শেয়ারবাজারে মূল্যস্ফীতির প্রভাব এবং সম্ভাব্য লোকসান এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা জানব।

মূল্যস্ফীতি ও শেয়ারের দাম

গত কয়েক বছর শেয়ার ট্রেডারদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। টানা এক দশক ধরে দাম বাড়ার পর 2021 সাল থেকে বাজারে আঘাত হেনেছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এর ফলে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়ে আগের বছরে 7%-এ পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, 2022 সালেও এই প্রবণতা চলবে, যার ফলে মূল্যস্ফীতি ব্যাপক আকার নিতে পারে। কে জানে, ভবিষ্যতের অবসর পরিকল্পনা নিয়ে ভাবার জন্য হয়তো এটাই ভালো সময়।

মূল্যস্ফীতির সময় শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো বিবেচনা করা জরুরি, সেগুলো হলো:

  1. যা-ই ঘটুক, মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আপনাকে একটি বিনিয়োগ কৌশল তৈরি করতে হবে।
  2. ব্যাংক সুদের হার কমালে তা থেকে নেতিবাচক রিটার্ন হতে পারে।
  3. ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তেল ও গমের দাম বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে ইউরোপে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে।

তাহলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকলে বিনিয়োগকারীদের কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

মূল্যস্ফীতি ও শেয়ার

দেখা যায়, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় শেয়ারবাজার কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ গড়ে তুলতেও এটি সহায়তা করতে পারে। মূল্যস্ফীতি আমাদের সাধারণত ট্রেড করার একটি কারণ। অর্থনীতিতে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হলে তার জন্য প্রস্তুতি নিতে আমরা শেয়ারবাজারকে একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করি।

উদাহরণ: গত শতকে যুক্তরাষ্ট্রে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় 3.5%। একই সময়ে, S&P সূচকে বার্ষিক রিটার্ন ছিল 10.49%। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা শুধু মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলতে পারেননি, বরং উল্লেখযোগ্য সম্পদও গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছেন।

কয়েক দশক ধরে বিশেষজ্ঞরা মূল্যস্ফীতি ও শেয়ারবাজারের দামের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁদের অধিকাংশই মনে করেন, মূল্যস্ফীতি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে এই দুইয়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক শনাক্ত করতে কেউই পারেননি।

ঐতিহাসিক তথ্য সংক্ষেপে দেখলে বোঝা যায়, মূল্যস্ফীতি বাড়লে বাজারে নানা ধরনের প্রভাব পড়ে এবং বিনিয়োগকারীরা কখনও ইতিবাচক, কখনও নেতিবাচক রিটার্ন পান। এ ছাড়া, শেয়ারবাজারের পারফরম্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আরও অনেক বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়। তাই বিষয়টি শুধু মূল্যস্ফীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

মূল্যস্ফীতির সময় কীভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, তা বুঝতে আমাদের দুটি প্রধান দিক বিবেচনা করতে হবে:

  • মূল্যস্ফীতি শেয়ারবাজারে যেভাবে প্রভাব ফেলে—মূল্যস্ফীতিতে সামান্য ঊর্ধ্বগতিও বাজারের অস্থিরতা বাড়াতে পারে। আমরা তো সবাই এমনটাই চাই, তাই না? মূল্যস্ফীতির সময় উপকরণ, মজুত পণ্য ও শ্রমের খরচ বাড়ায় শেয়ারের দামে ওঠানামা হয়। একদিকে, রিটার্ন মূলত কোম্পানির ভবিষ্যৎ আয় ও প্রত্যাশার ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, এর ফলে “রিটার্নের ধারাবাহিকতা” নামে পরিচিত এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক ফলের আশা করতে পারেন।
  • বন্ডের ইল্ড ও নগদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব—আরেকটি বিবেচ্য বিষয় হলো, মূল্যস্ফীতি নগদ অর্থ ও বন্ডকে কীভাবে প্রভাবিত করে। সুদের হার ক্রমাগত কমতে থাকলে মানুষ সেভিংস অ্যাকাউন্টে অর্থ রাখতে আগ্রহী হয় না। মূল্যস্ফীতি তাদের সঞ্চয়ের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেবে, যা নগদ অর্থের অবস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই কথা প্রযোজ্য নির্দিষ্ট আয়ের সম্পদের ক্ষেত্রেও, যেমন বন্ড। মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে সাধারণত এসব সম্পদের পারফরম্যান্স দুর্বল হয়। এ ক্ষেত্রে “প্রকৃত রিটার্ন” বিবেচনা করা জরুরি। একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনি যে সুদের হার পান, তা থেকে মূল্যস্ফীতির হার বাদ দিলে যে পার্থক্য থাকে, সেটিই প্রকৃত রিটার্ন।

মূল্যস্ফীতি ও শেয়ারবাজার সম্পর্কে ইতিহাস কী বলে

মূল্যস্ফীতি ও শেয়ারবাজার নিয়ে আলোচনা করার সময় আমাদের মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে মূল্যস্ফীতি খুবই বিরল। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মাত্র একবার মূল্যস্ফীতি 5%-এর বেশি হয়েছিল—1973 থেকে 1982 সালের মধ্যে। এই উদাহরণে মূল্যস্ফীতির দীর্ঘমেয়াদি একটি সময়কাল দেখা গেলেও, এমন ঘটনা খুব কমই ঘটে।

এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।