ফরেক্স বাজারে দক্ষতা অর্জন করা কঠিন হতে পারে। এ জন্য অনেক পড়াশোনা করতে হয়, আর ফরেক্স শিক্ষাকতটা গুরুত্বপূর্ণ তা কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়। টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের সেরা বইগুলোর তালিকাআমরা ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছি। পড়াশোনা ও শেখার জন্য এই বইগুলো অপরিহার্য।

তবে এবার আমরা বাজারের মনোভাব, স্টক চার্ট এবং বিভিন্ন চার্ট বিশ্লেষণের পদ্ধতি সম্পর্কে আরও জানার জন্য কিছু অতিরিক্ত উৎস শেয়ার করতে চাই, যা আপনার ফরেক্স কৌশলকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাবে। এর মধ্যে অন্তত কয়েকটি পড়ার পর আপনি বিভিন্ন বাজারে ট্রেড করতে পারবেন—শুধু কারেন্সি পেয়ার নয়, স্টক ও ক্রিপ্টোতেও সফলভাবে ট্রেড করতে পারবেন।
চলুন, শুরু করা যাক!
বইটি ইচিমোকু পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্লাউড চার্ট তৈরির ওপর ভিত্তি করে লেখা। আপনি যদি এই ধরনের জাপানি চার্ট ব্যবহার করেন, তাহলে বইটি আপনার সংগ্রহে থাকা উচিত। লেখক নিজেও একজন সফল ট্রেডার। টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস নিয়ে তিনি আরও দুটি বই প্রকাশ করেছেন।
ইচিমোকু পদ্ধতি ব্যবহার করেন এমন ফরেক্স ট্রেডারদের জন্য এই বইটি উপযোগী। এই পদ্ধতিতে 4টি বেসলাইন ইন্ডিকেটর ব্যবহার করা হয়, যা কোনো সম্পদ কেনা বা বিক্রির সেরা সুযোগ চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। পদ্ধতিটি শুধু ফরেক্স ট্রেডিংয়েই নয়, স্টক ও কমোডিটি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়।
বইটিতে বিভিন্ন ইন্সট্রুমেন্টে ট্রেড করার সময় এই নির্দিষ্ট পদ্ধতি কীভাবে প্রয়োগ করতে হয়, তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। সহজ কথায়, লেখক ইচিমোকু পদ্ধতি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা দিয়েছেন, যা আপনার বিনিয়োগের পদ্ধতি উন্নত করতে অবশ্যই সাহায্য করবে।



এই বইটির লেখকই আসলে পাশ্চাত্যের ট্রেডিং জগতে ক্যান্ডেলস্টিক চার্টিংয়ের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় সংস্করণে স্টিভ নিসন হালনাগাদ নির্দেশিকা এবং জাপানি ক্যান্ডেলস্টিক ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাসেটে কীভাবে ট্রেড করতে হয়, সে সম্পর্কে বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরেছেন।
এই বইটির মূল উদ্দেশ্য হলো, মানুষকে মুদ্রা বা শেয়ারের দামের পূর্বাভাস দিতে, ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে এবং বাজারের অপ্রত্যাশিত ওঠানামায় দ্রুত সাড়া দিতে শেখানো। এ ছাড়া, এখানে প্রতিটি ধরনের ক্যান্ডেলস্টিক বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা ও বর্ণনা করা হয়েছে।
নিসন দেখিয়েছেন, ট্রেন্ড, বিভিন্ন প্রাইস প্যাটার্ন এবং বাজারের রিভার্সাল শনাক্ত করতে কীভাবে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্ডেলস্টিক ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া, লেখকের নিজের ট্রেডিং অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেস স্টাডি রয়েছে। এগুলোতে বাস্তব উদাহরণ এবং নির্দিষ্ট বাজার পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
এই বইটি আপনার দৈনন্দিন ফরেক্স চার্ট ট্রেডিংকে একটি বহুমুখী কৌশলে পরিণত করবে, যার সাহায্যে আপনি বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি আগে থেকে বুঝে সেই অনুযায়ী আপনার ফরেক্স কৌশল প্রয়োগ করতে পারবেন।
বইটির নাম থেকেই বোঝা যায়, লেখক পয়েন্ট অ্যান্ড ফিগার চার্টিং পদ্ধতির ওপর জোর দিয়েছেন, যা শেয়ার ট্রেডারদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। জেরেমি ডি প্লেসিস তাঁর বইয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব গুরুত্বপূর্ণ ধাপ তুলে ধরেছেন। পাঠকেরা বিভিন্ন ফর্মেশন ও ট্রেন্ড শনাক্ত করতে সঠিকভাবে চার্ট সেট আপ করার পদ্ধতি শিখবেন।
এ ছাড়া, পরিবর্তনশীল বাজারে কেনা বা বেচার সুযোগ শনাক্ত করতে প্লেসিসের ব্যবহার করা কয়েকটি ব্যক্তিগত কেস স্টাডিও বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। কোনো ট্রেডার IFTA সার্টিফিকেশন পেতে এবং পেশাদার হতে চাইলে পয়েন্ট অ্যান্ড ফিগার চার্টিং পদ্ধতি জানা আবশ্যক। নতুনদের কাছে এই পদ্ধতি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি খুলে দিতে পারে।
বইটি রবার্ট প্রেচটারের ডেফিনিটিভ কালেকশন সিরিজের অংশ। এটি আসলে এলিয়ট ওয়েভ থিওরির জনকের লেখা গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলোর সংকলন। এই বইয়ে পাঠকেরা এলিয়টের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নোট ও প্রবন্ধ পাবেন, যেখানে এলিয়ট ওয়েভ থিওরির মূল বিষয়ের পাশাপাশি উন্নত পর্যায়ের আলোচনাও রয়েছে।
আপনি যদি এই থিওরি এবং এর পেছনের ধারণা সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী হন, তাহলে বইটি একটি ভালো পছন্দ হতে পারে। এতে বাজার বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন ট্রেডিং পদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গির একটি পূর্ণাঙ্গ বিবরণ রয়েছে।
আর এন এলিয়টের মাস্টারওয়ার্কস একটি একক, পূর্ণাঙ্গ বই। তিনটি মৌলিক ও যুগান্তকারী রচনার ভিত্তিতে এতে তত্ত্বটি নিয়ে মূল লেখাগুলো এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপিত ভাবনা রয়েছে।
বইটিতে বিভিন্ন ট্রেডিং প্যাটার্ন তৈরি, পরীক্ষা এবং যাচাই করার ব্যবহারিক পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া, এখানে একটি সফল ও কার্যকর ট্রেডিং সিস্টেম কীভাবে তৈরি করতে হয়, তার উদাহরণও রয়েছে।
বিভিন্ন আর্থিক বাজারে কোয়ান্টিটেটিভ ট্রেডিং পদ্ধতি তৈরি ও প্রয়োগ করতে ট্রেডারদের যেসব উপায় ও টুলের প্রয়োজন হতে পারে, এই বইটি সেগুলো নিয়ে আলোচনা করে। পাঠকেরা এতে প্রাথমিক বিষয় থেকে শুরু করে উন্নত পর্যায়ের বিষয়বস্তু পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন।
এটি শুধু কিছু নিয়ম ও মেকানিজমের বর্ণনা নয়। বইটিতে ট্রেডারের ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য, উপযুক্ত বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণের সক্ষমতা এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের পদক্ষেপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লেখকের অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরা হয়েছে। ধারণাগুলো বিস্তারিতভাবে বোঝাতে এতে রয়েছে বহু বাস্তব উদাহরণ ও কেস স্টাডি।
এই উপকরণে বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ, বিনিয়োগের সুপারিশ, আর্থিক উপকরণে কোনো লেনদেনের প্রস্তাব বা আহ্বান নেই এবং এটিকে এমন কিছু আছে বলে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, ঝুঁকিগুলো বুঝতে পারছেন কি না তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।