লগ আউট
Are you sure you want to exist?
MTrading Team • আজ

শুল্ক ও জাপানের হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে USDJPY-তে দরপতনের পক্ষের ট্রেডারদের দাপট বাড়ছে

শুল্ক ও জাপানের হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে USDJPY-তে দরপতনের পক্ষের ট্রেডারদের দাপট বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুল্ক ও রাজনৈতিক সংকট USD-তে ঊর্ধ্বমুখী ট্রেডারদের উৎসাহ জোগাতে পারেনি

4 মার্চ থেকে কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর 25% শুল্ক এবং চীনের ওপর অতিরিক্ত 10% শুল্ক আরোপের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় বাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই খবরের পাশাপাশি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতি এবং মার্কিন শুল্কের জবাবে চীন ও কানাডার সম্ভাব্য পাল্টা বাণিজ্যিক পদক্ষেপের খবর বিনিয়োগকারীদের মনোভাব দুর্বল করেছে। এ ছাড়া, মুদ্রা কারসাজির অভিযোগে চীন ও জাপানকে ট্রাম্পের দোষারোপ, Atlanta Fed-এর GDPNow ট্র্যাকার অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হতাশাজনক পূর্বাভাস এবং দুর্বল মার্কিন PMI তথ্য অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে এবং মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে, তিন দিনের টানা উত্থানের ধারা ভেঙে US Dollar Index (DXY) ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন রেকর্ড করেছে।

এর ফলে, ইউরো (EUR), ব্রিটিশ পাউন্ড (GBP) এবং ইয়েন (JPY) মার্কিন ডলারের বিপরীতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ড ডলারের আগের পতন থেমেছে, তবে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী গতি দেখা যায়নি। অন্যদিকে, কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য অপরিশোধিত তেলের দামে পতনের কারণে মার্কিন ডলারের দরপতনেও কানাডিয়ান ডলার (CAD) লাভবান হতে পারেনি। এদিকে, এক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায় থেকে Gold-এর দাম পুনরুদ্ধার হওয়ায় টানা দুই দিনের পতনের ধারার অবসান হয়েছে। এছাড়া, ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম নিচু পর্যায়ে ছিল এবং শেয়ারবাজারও সামগ্রিক নেতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে নিম্নমুখী হয়ে বন্ধ হয়েছে।

EURUSD ও GBPUSD-এর ক্রেতারা আরও সংকেতের অপেক্ষায়

যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দুর্বলতা, ইউরোজোনের ইতিবাচক মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং যুক্তরাজ্যের ফেব্রুয়ারির শক্তিশালী ম্যানুফ্যাকচারিং PMI—এসবের ফলে EURUSD ও GBPUSD কয়েক দিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরবৃদ্ধি পায়। তবে চলমান ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ECB) ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (BoE) নমনীয় নীতির অবস্থান মঙ্গলবারের শুরুর দিকে ক্রেতাদের সতর্ক রাখে। এদিকে, ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়াম (BRC) জানায়, ফেব্রুয়ারিতে দোকানের দাম মাসওয়ারি 0.4% বেড়েছে। তবে বছরওয়ারি দাম -0.7%-এ অপরিবর্তিত ছিল। BRC আরও সতর্ক করে যে কর্মসংস্থানের খরচ বাড়ায় দাম আরও বাড়তে পারে, যা সাম্প্রতিক সময়ে পাউন্ড স্টার্লিংয়ের ক্রেতাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

USDJPY চাপে রয়েছে

কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর পরিকল্পিত শুল্ক আরোপের আগে সতর্ক মনোভাব তৈরি হয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবারের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপতন থেমে যায়। তা সত্ত্বেও USDJPY-তে চাপ অব্যাহত ছিল। বেশিরভাগ জাপানি কর্মকর্তা মুদ্রা কারসাজি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ইশিবা মুদ্রার অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে জাপানের অবস্থানের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, বৈদেশিক মুদ্রানীতি নিয়ে ট্রাম্পের কাছ থেকে কোনো সতর্কবার্তা বা ফোন পাননি। এদিকে, ব্যাংক অব জাপানের (BoJ) আরও সুদ বাড়ানোর প্রত্যাশা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগও USDJPY-তে চাপ বজায় রেখেছে।

AUDUSD ও NZDUSD সামান্য নড়াচড়া করছে, তবে USDCAD-এর ঊর্ধ্বমুখী ট্রেডাররা এখনও আশাবাদী

অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে মার্কিন ডলারের দরপতন থেকে অস্ট্রেলিয়ান, নিউজিল্যান্ড ও কানাডিয়ান ডলার তেমন সুবিধা পায়নি। সোমবার AUDUSD ও NZDUSD-তে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও, USDCAD টানা সপ্তম দিনের মতো বেড়ে এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কানাডার বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং OPEC+ ঘোষণার পর দেশটির অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য ক্রুড অয়েলের দামে অপ্রত্যাশিত পতন এর পেছনে কাজ করেছে।

ইন্ডাস্ট্রির সেরা ট্রেডিং শর্ত
ডিপোজিট বোনাস
সর্বোচ্চ 200% ডিপোজিট বোনাস 
সর্বোচ্চ 200%
স্প্রেড
0 পিপ থেকে স্প্রেড 
0 পিপ থেকে
পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত কপি
ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম
এখনই যোগ দিন

OPEC+-এর চাপে ক্রুড অয়েলের দরপতন, সোনার আকর্ষণ ফিরছে

Reuters-এর খবরে বলা হয়েছে, OPEC+ এপ্রিলে স্বেচ্ছায় উৎপাদন কমানোর ফলে বাজার থেকে সরিয়ে রাখা তেলের ব্যারেলগুলো ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অপ্রত্যাশিত ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, 2025 ও 2026 জুড়ে দৈনিক মোট 2.2 মিলিয়ন ব্যারেল (mbpd) উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে। সোমবার এই খবরে WTI ক্রুড অয়েলের দাম তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে এবং সাম্প্রতিক সময়েও আরও কমেছে।

এদিকে, আগের দুই দিনের দরপতনের পর সোনার দাম এক মাসের সর্বনিম্ন স্তর থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দুর্বল মার্কিন ডলার, বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে বাজারের আশঙ্কা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তিচুক্তি নিয়ে হতাশাজনক পূর্বাভাস—এসব কারণে ট্রেডাররা চিরাচরিত নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন।

ট্রাম্পের আশাবাদে কর্ণপাত করছে না ক্রিপ্টোকারেন্সি

ট্রাম্পকে ঘিরে শিল্পখাতের আশাবাদ থাকা সত্ত্বেও সোমবার Bitcoin (BTCUSD) এবং Ethereum (ETHUSD) সপ্তাহান্তের দরবৃদ্ধি হারিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের ক্রিপ্টোকারেন্সি রিজার্ভ গড়ে তোলার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ এবং সামগ্রিক বাজারের হতাশাবাদও এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে।

প্রধান অ্যাসেটগুলোর সর্বশেষ ওঠানামা

  • সপ্তাহের শুরুতে দরপতন বাড়িয়ে WTI ক্রুড অয়েল সর্বশেষে প্রায় $67.80-এ নেমেছে, যা তিন মাসের নতুন সর্বনিম্ন।
  • আগের দিন টানা দুই দিনের দরপতনের ধারা থামার পরও সোনার দাম $2,890-এর আশেপাশে স্থির রয়েছে।
  • প্রেস টাইমে USD Index 106.50-এর কাছাকাছি দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, ফলে সপ্তাহের শুরুতে হওয়া লোকসান ধরে রেখেছে।
  • ওয়াল স্ট্রিটের বাজার নিম্নমুখী ছিল, আর এশিয়া-প্যাসিফিকের শেয়ারবাজারও নিম্নমুখী হয়েছে। তবে, প্রাথমিক ট্রেডিং ঘণ্টায় ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের বাজারে সামান্য নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
  • BTCUSD ও ETHUSD—দুটিরই দাম দিনের মধ্যে 3.0%-এর বেশি কমে যথাক্রমে প্রায় $83,400 ও $2,075-এ নেমেছে।

ঝুঁকির অনুঘটকগুলোই মূল বিষয়

মঙ্গলবার অর্থনৈতিক তথ্যের সূচি তুলনামূলক হালকা থাকায় বাজারের অংশগ্রহণকারীরা দিকনির্দেশনার জন্য শুল্কসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং মার্কিন কংগ্রেসের পদক্ষেপসহ প্রধান ঝুঁকির বিষয়গুলোতে নজর দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হওয়ার নতুন উদ্বেগ, কানাডার পাল্টা শুল্ক এবং ট্রাম্পের পদক্ষেপের বিরোধিতায় চীনের অবস্থানের প্রেক্ষাপটে, ফেডের নতুন কড়া নীতির ইঙ্গিত না এলে মার্কিন ডলার চাপে থাকতে পারে। মার্কিন কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির শক্তিশালী প্রতিবেদন এবং FOMC সদস্যদের ইতিবাচক মন্তব্য যেকোনো পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। এদিকে, সোনা সপ্তাহের শুরুর দিকের পুনরুদ্ধার অব্যাহত রাখতে পারে। BoJ নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় জাপানের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির কারণে ইয়েনের চাহিদা বজায় থাকতে পারে। তবে EURUSD ও GBPUSD-তে দরপতন হতে পারে, আর অ্যান্টিপোডিয়ান মুদ্রাগুলোর—বিশেষ করে CAD-এর—মার্কিন ডলারের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কঠিন হতে পারে।

শীর্ষস্থানীয় অ্যাসেটগুলোর পূর্বাভাস

  • বুলিশ প্রবণতার সম্ভাবনা: USDCAD, USDJPY, US Dollar, Silver, BTCUSD, ETHUSD
  • আরও দরপতনের সম্ভাবনা: AUDUSD, NZDUSD, GBPUSD
  • পার্শ্বমুখী গতি প্রত্যাশিত: Nasdaq, Gold, DJI30, USDCNH
  • ধীরগতির & ক্রমশ পতনের আশঙ্কা: DAX, FTSE 100, EURUSD, ক্রুড অয়েল, GBPUSD

ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!