
চীন ও জাপান থেকে আসা ইতিবাচক বাণিজ্যসংক্রান্ত খবর ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা কমালেও, বাজারে তারল্য কম থাকায় ইস্টারের ছুটিতে ট্রেডিং ধীর হয়ে পড়েছে। প্রধান মুদ্রা ও কমোডিটির দামে স্থিতি এসেছে। দুর্বল মার্কিন তথ্য এবং IMF প্রধান জর্জিয়েভার হতাশাবাদী পূর্বাভাসের কারণে মার্কিন ডলার চাপে রয়েছে। ফেড চেয়ার পাওয়েলকে নিয়ে ট্রাম্পের চলমান সমালোচনায় ডলারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনা এবং EU, জাপান ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ বাজারে কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করছে। তবে ট্রাম্পের শুল্কের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীরগতির আশঙ্কা রয়ে গেছে। এদিকে, ইরান নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান এবং ইউরোপের সঙ্গে রাশিয়ার বিরোধের মতো ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছু সম্পদের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
US Dollar Index সাপ্তাহিক লোকসানের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, Gold, JPY ও CHF-এর মতো নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত অ্যাসেটগুলো বুলিশ ট্রেডারদের নজরে রয়েছে। এদিকে US-চীন বাণিজ্য নিয়ে আশাবাদের কারণে AUDUSD ও NZDUSD বাড়ছে, তবে ক্রুড অয়েলের দাম বাড়লেও USDCAD চাপে রয়েছে। ECB-এর ডোভিশ সুদের হার কমানো EURUSD-এর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যদিও পেয়ারটি এখনও সপ্তাহজুড়ে লাভে রয়েছে। সবশেষে, GBPUSD শক্তিশালী রয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর পারফরম্যান্স মিশ্র এবং শক্তিশালী শুরুর পর শেয়ারবাজারে সাপ্তাহিক লোকসানের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মিল রেখে ECB-এর 0.25% সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত EURUSD-এর বুলদের উৎসাহ কমিয়েছে, যদিও টানা চতুর্থ সপ্তাহে পেয়ারটির দর বেড়েছে। জুনে সুদের হার কমানোর আলোচনা এবং EU-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির আশা দর ওঠানামা সীমিত করছে, বিশেষ করে বাজার বন্ধের ছুটির সময়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ GBPUSD-কে সাড়ে ৬ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলেছে। তবে ছুটির আমেজ এবং যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক মিশ্র তথ্যের কারণে গতি কিছুটা কম।
এদিকে, USDJPY তিন সপ্তাহ ধরে নিম্নমুখী রয়েছে এবং অক্টোবরে পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে। এই দরপতনের পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ের চাহিদা বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র-জাপান বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ এবং Bank of Japan (BoJ)-এর কড়া নীতির ইঙ্গিত।
US Dollar-এর সার্বিক দুর্বলতা এবং US-China বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদের জেরে AUDUSD ও NZDUSD টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে লাভের পথে রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও USDCAD চাপে রয়েছে। US-Canada বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ এবং Bank of Canada-র নমনীয় অবস্থান এই পেয়ারটির দরপতনের একটি সীমা তৈরি করছে।
ইস্টার ছুটির আগে মার্কিন ডলারের ঘুরে দাঁড়ানো এবং বাজারে কনসোলিডেশনের কারণে সোনার দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি এসে আর বাড়েনি। তবে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে এর অবস্থান, চীন থেকে বাড়তি চাহিদা এবং দুর্বল মার্কিন ডলারের সমর্থনে সোনা টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে দরবৃদ্ধির পথে রয়েছে।
এদিকে, WTI ক্রুড অয়েল টানা 3 সপ্তাহের মধ্যে প্রথম সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির পথে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ কমা এবং আরও বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তির আশাবাদ এতে সহায়তা করছে, যা জ্বালানির চাহিদা বাড়াতে পারে। পাশাপাশি, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের পরিকল্পিত হামলার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং দুর্বল মার্কিন ডলার তেলের দামে আরও সমর্থন জোগাচ্ছে।



ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রতি Trump-এর অব্যাহত সমর্থন সত্ত্বেও Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর ওপর বাজারের আস্থা কমেছে। বাজারে তারল্য কম থাকা, ETF থেকে অর্থপ্রবাহ বেরিয়ে যাওয়া এবং দুর্বল অন-চেইন ডেটার কারণে শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো দুর্বল মার্কিন ডলারের সুবিধা কাজে লাগিয়ে গতি পেতে হিমশিম খাচ্ছে।
প্রধান বাজারগুলোতে গুড ফ্রাইডে ও ইস্টার মানডের ছুটি এবং অন্যান্য বাজারে অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা না থাকায় এ সপ্তাহে লিকুইডিটি কম থাকবে। তবে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলমান খবর কিছুটা উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। বাজারে অংশগ্রহণ কম থাকায় জল্পনাকারীদের লেনদেনে দামে সাময়িক উল্লম্ফন দেখা দিতে পারে।
বাজারে লেনদেনের এই শান্ত পরিবেশে, মার্কিন ডলার সাম্প্রতিক দরপতনের কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারে। এতে EURUSD-এ ক্রেতাদের ওপর চাপ পড়তে পারে, পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও কানাডিয়ান ডলারও চাপে পড়তে পারে। তা সত্ত্বেও, অন্যান্য প্রধান মুদ্রা এবং সোনা ও ক্রুড অয়েলের মতো অ্যাসেটগুলো চলতি সপ্তাহের প্রবণতা ধরে রাখতে পারে। ছুটির দিনের ধীরগতির মধ্যে এগুলোর দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!