
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরু হওয়ার প্রাথমিক ইঙ্গিতে বাজারের মনোভাব উন্নত হয়েছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে এবং মার্কিন ডলারের ওপর চাপ কমেছে। বৈশ্বিক তথ্য দুর্বল থাকা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানো এবং Fed-এর আরও সুদ কমানোর সম্ভাবনা আশাবাদ বাড়িয়েছে।
বেইজিং নিশ্চিত করেছে, বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে ওয়াশিংটন যোগাযোগ করেছে—এতে অগ্রগতির আশা বেড়েছে। তবে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহারের জন্য চীনের দাবি নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবুও, চীনের ছুটি এবং সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়টি বিবেচনায় থাকায় বাজারের মনোভাব সতর্কভাবে আশাবাদী।
এর প্রতিক্রিয়ায়, মার্কিন ডলার সূচক (DXY) টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বগতি থামিয়েছে। এতে গোল্ড 21-SMA থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এখন পর্যন্ত চার দিনের মধ্যে প্রথম দৈনিক উত্থান নথিভুক্ত করেছে। এদিকে, EURUSD তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে পুনরুদ্ধার করেছে, আর GBPUSD টানা তিন দিনের নিম্নমুখী প্রবণতা পরীক্ষা করছে। অন্যদিকে, USDJPY এপ্রিলের সর্বোচ্চ স্তর থেকে নেমে এসেছে এবং টানা তিন দিনের ঊর্ধ্বগতি থেমেছে।
AUDUSD টানা চতুর্থ সপ্তাহে লাভের পথে, তবে দিনের মধ্যে ঊর্ধ্বমুখী চলাচল সত্ত্বেও NZDUSD সপ্তাহজুড়ে দুর্বল রয়েছে। এদিকে, USD দুর্বল হওয়া এবং কানাডার অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় USDCAD চাপের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো কয়েক সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি সামান্য লাভ করেছে, আর শেয়ারবাজারও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
আলোচনা আবার শুরুর জন্য বেইজিংয়ের শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাবের পর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মনোভাব বদলায়, যা ছুটি শেষে ইউরোপীয় ট্রেডাররা বাজারে ফিরলে বাজারের আশাবাদ বাড়ায়। EU ও যুক্তরাজ্যের দুর্বল তথ্য সত্ত্বেও, EURUSD এবং GBPUSD—দুটিই টানা চারটি সেশনের পর প্রথম দৈনিক দরবৃদ্ধি দেখায়, যা স্বল্পমেয়াদি দরপতনের পর সম্ভাব্য ঊর্ধ্বমুখী সংশোধনের ইঙ্গিত দেয়।
USDJPY-ও তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে নেমে তিন দিনের উত্থান থামিয়েছে। জাপান চীনের অবস্থানের সঙ্গে মিল রেখে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানানোয় পেয়ারটির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। জাপানে বেকারত্বের হার অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়া এবং ব্যাংক অব জাপানের সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বাজারের মিশ্র মনোভাব আরও বাড়িয়েছে, যদিও মার্কিন ডলার দুর্বল হচ্ছে।
মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং চীনকে ঘিরে নতুন করে আশাবাদ পণ্যনির্ভর মুদ্রাগুলোকে শক্তিশালী করেছে। অস্ট্রেলীয় ডলার, নিউজিল্যান্ড ডলার ও কানাডিয়ান ডলার—সবগুলোই দিনের মধ্যে বেড়েছে। AUDUSD চার সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারা গড়ার দিকে এগোচ্ছে এবং NZDUSD সাপ্তাহিক লোকসান কিছুটা কমিয়েছে। তেলের দামে পুনরুদ্ধারের সহায়তায় USDCAD চাপের মধ্যে থেকেছে। অস্ট্রেলিয়ার মিশ্র তথ্য, নিউজিল্যান্ডে শক্তিশালী বিল্ডিং পারমিট এবং যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির আশাও এই মুদ্রাগুলোকে ঘিরে বাজারের মনোভাবকে সমর্থন করেছে।
শুক্রবারের শুরুতে সোনার দাম কিছুটা বেড়েছে, ফলে টানা তিন দিনের পতনের ধারা থেমেছে। এর পেছনে রয়েছে দুর্বল হয়ে আসা US Dollar, বৈশ্বিক চাহিদার দৃঢ়তা এবং সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা বৃদ্ধি। তবে US-এর এপ্রিলের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের আগে সতর্কতা এবং “মে মাসে বিক্রি করুন” আশঙ্কা দাম বৃদ্ধিকে সীমিত রাখছে। ফলে সোনা টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে লোকসানের পথে রয়েছে।



চীনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাজারের মনোভাবকে চাঙা করায় অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। কম দাম নিয়ে সৌদি আরব স্বচ্ছন্দ—এমন দাবিও দেশটি নাকচ করায় এই মনোভাব আরও জোরদার হয়েছে। ক্রিপ্টো বাজারে অন-চেইন সূচকের শক্তিশালী অবস্থা এবং বড় মার্কিন ব্যাংকগুলো শিগগিরই ট্রেডিং সেবা দিতে পারে—এমন খবর ঊর্ধ্বমুখী মনোভাব বাড়িয়েছে। এর ফলে Bitcoin (BTCUSD) ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে, Ethereum (ETHUSD)-এর দর এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আশপাশে ওঠানামা করছে।
ইউরোপের ট্রেডাররা ছুটি থেকে ফিরে আসায় বাজারে ব্যস্ত একটি সেশনের প্রস্তুতি চলছে। EU-এর মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং US-এর এপ্রিলের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন থাকবে নজরের কেন্দ্রে। US-China বাণিজ্য আলোচনা, ইউক্রেন-রাশিয়া উত্তেজনা এবং US-Iran আলোচনা নিয়ে চলমান উদ্বেগও বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। সপ্তাহান্তে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচন এবং আসন্ন US Factory Orders-ও নজরদারির তালিকায় রয়েছে।
প্রাথমিক লক্ষণগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ননফার্ম পেরোলস (NFP)-এর পরিসংখ্যান দুর্বল হতে পারে, যা মার্কিন ডলারের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তবে বেকারত্ব স্থিতিশীল থাকা এবং মজুরি ভালোভাবে বাড়লে দরপতন সীমিত হতে পারে। এই পরিস্থিতি EUR, GBP ও JPY-এর ঘুরে দাঁড়ানোকে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, শক্তিশালী প্রণোদনা না থাকলে সোনার দর বাড়তে বাধার মুখে পড়তে পারে। এদিকে, তেল, ক্রিপ্টো ও পণ্যনির্ভর মুদ্রার দর কিছুটা বাড়তে পারে, তবে বিশ্ববাজারের মিশ্র সংকেতের মধ্যে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!