
মঙ্গলবারের শুরুতে বাজারের গতি সীমিত রয়েছে। মিশ্র মনোভাব ও ছুটির আমেজ বাজারে প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক US অর্থনৈতিক তথ্য Fed-এর কঠোর নীতির অবস্থান নিয়ে সন্দেহ বাড়ানোয় US ডলারের পক্ষে অর্জিত মুনাফা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে, চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় দুর্বল অর্থনীতিকে সহায়তা করতে আর্থিক পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। এর ফলে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোও ওয়াল স্ট্রিটের সামান্য উত্থানের ধারায় এগিয়েছে।
তবে, বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে উৎসবের আমেজ মিলিয়ে ফরেক্স বাজারের প্রতিক্রিয়া সীমিত রয়েছে। সোমবার, যুক্তরাষ্ট্র চীনের “legacy” সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে, যা সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং AUDUSD-তে চাপ সৃষ্টি করেছে। RBA-র ডোভিশ মিনিটসের পর এই কারেন্সি পেয়ারের দরপতন আরও বেড়েছে।
EURUSD-এর ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে, আর বড় কোনো অনুঘটক ছাড়াই GBPUSD কিছুটা লোকসান পুষিয়ে নিচ্ছে। সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের আশঙ্কা এবং Bank of Japan-এর সুদের হার বাড়ানোর জল্পনার মুখে USDJPY রয়েছে। NZDUSD-তে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশ নেই। এদিকে, ক্রুড অয়েলের দাম সামান্য বাড়লেও USDCAD টানা তিন দিনের পতনের ধারা থামিয়েছে। নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে Gold সুবিধা পাচ্ছে, তবে কম লিকুইডিটি ও অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে বড় কোনো তথ্য না থাকায় এতে গতি নেই।
সোমবারের দুর্বল CB Consumer Confidence ও Durable Goods Orders এবং শুক্রবারের তুলনায় নরম ফেডের মুদ্রাস্ফীতির তথ্যকে মার্কিন ডলার উপেক্ষা করলেও, পশ্চিমা বিশ্বে ছুটির আমেজ বাজারের প্রতিক্রিয়া সীমিত রাখছে। বড় ধরনের নেতিবাচক খবর বা ECB-র ডোভিশ মন্তব্য না থাকায় EURUSD-এর আরও দরপতন ঠেকেছে, যদিও দরপতনের চাপ এখনো রয়েছে।
এদিকে, তারল্য কম থাকা এবং সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ডলারের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ট্রেডাররা আগের লোকসানের পর GBPUSD কিনছেন। তবে যুক্তরাজ্যের দুর্বল GDP তথ্য এবং Bank of England (BoE)-এর আরও সুদহার কমানোর আশঙ্কায় পাউন্ডের ক্রেতারা সতর্ক রয়েছেন।
ব্যাংক অব জাপানের অক্টোবরের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে নীতিনির্ধারকেরা আরও সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে। এর ফলে USDJPY-তে দরপতন হয়েছে। জাপানের অর্থমন্ত্রী কাতসুনোবু কাতোও বলেছেন, ইয়েনের দামে অতিরিক্ত ওঠানামা হলে তা রক্ষায় হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত।
এদিকে, নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ এবং দেশটির রিজার্ভ ব্যাংকের (RBNZ) সুদের হার কমানোর প্রত্যাশার কারণে কম লিকুইডিটি থাকা সত্ত্বেও NZDUSD দুর্বল রয়েছে। অন্যদিকে, চার দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো বেড়েছে USDCAD। এর পেছনে রয়েছে ব্যাংক অব কানাডার (BoC) নরম অবস্থানের পূর্বাভাস, কানাডার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য—যদিও ক্রুড অয়েলের দাম বেড়েছে।



চীন-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং Fed-এর সামগ্রিকভাবে কড়া নীতির ঝোঁক AUDUSD-কে দরপতনের চাপে রেখেছে। RBA-এর সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণীও দরপতনের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। মিশ্র অর্থনৈতিক তথ্য ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে তৈরি বাজারের সতর্কতা এবং ছুটির কারণে কম তারল্য—সব মিলিয়ে এই কারেন্সি পেয়ারের গতি সীমিত হচ্ছে।
বাজারের মিশ্র মনোভাবের মধ্যে ট্রেডাররা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজলে গোল্ডের দর ঘুরে দাঁড়ায় এবং আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়। বছরের শেষে শক্তিশালী অবস্থানে বাজার বন্ধ হওয়ার আশাবাদও রয়েছে; 2010 সালের পর এ বছর গোল্ডের সবচেয়ে বড় বার্ষিক উত্থান হতে পারে। তবে শক্তিশালী US Dollar XAUUSD-এর দরবৃদ্ধি সীমিত করছে।
চীনের আরও প্রণোদনার প্রত্যাশা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নের উদ্বেগে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যদিও OPEC+ সরবরাহকারীদের উৎপাদন বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
ট্রাম্পকে ঘিরে আশাবাদ ক্রিপ্টো ক্রেতাদের ইতিবাচক রাখলেও, বছরশেষের দর সমন্বয় এবং US IRS-এর ঝুঁকিবিরূপ খবর Bitcoin (BTCUSD) ও Ethereum (ETHUSD)-এর বিক্রেতাদের সক্রিয় করে তুলছে।
গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিগুলোতে বড় কোনো তথ্য বা ঘটনা না থাকায়, ছুটির সময়ের ট্রেডিং বাজারের গতি কম রাখবে। ট্রেডিং কম এবং লিকুইডিটি কম থাকায় দামে তীব্র ওঠানামা হতে পারে, তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গোল্ডের সাম্প্রতিক উত্থান এবং অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ড ডলারের দুর্বলতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। 2025 সালের জন্য ফেডের সামগ্রিকভাবে হকিশ দৃষ্টিভঙ্গির সমর্থনে US Dollar শক্তিশালী থাকতে পারে।
ট্রেডিংয়ে ভাগ্য আপনার সহায় হোক!